ডেস্ক রিপোর্ট: গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ তদন্তের বৈধতা নিয়ে ইসরায়েলের আপিল খারিজ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। আদালতের আপিল চেম্বার সোমবার দেওয়া এক রায়ে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর পরিস্থিতিতে এমন কোনো ‘নতুন অবস্থা’ তৈরি হয়নি, যার কারণে প্রসিকিউটরকে তদন্ত প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করতে হবে বা ইসরায়েলকে নতুন করে নোটিশ দিতে হবে।রায়ে আপিল চেম্বারের বিচারকরা প্রি-ট্রায়াল চেম্বারের আগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তারা বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান তদন্তটি একই ধরনের সশস্ত্র সংঘাত, একই ভূখণ্ড এবং একই পক্ষকে ঘিরে—যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলমান ফিলিস্তিন পরিস্থিতি সংক্রান্ত মামলার আওতাতেই পড়ে।এর আগে, ইসরায়েল দাবি করেছিল, ৭ অক্টোবরের পর সংঘাতের ব্যাপকতা ও মাত্রা মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের যুক্তি ছিল, এই পরিবর্তনের ফলে রোম সংবিধির ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইসিসির নতুন আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করা প্রয়োজন।তবে বিচারকরা এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তদন্তের কাঠামো বা পরিসরে এমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি, যার জন্য নতুন নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। আদালত আরও উল্লেখ করে, ২০২১ সালে যে তদন্ত শুরু হয়েছিল, তা ২০১৪ সালের ১৩ জুনের পর সংঘটিত যুদ্ধাপরাধকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর কোনো নির্দিষ্ট শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়নি। আইসিসির এই রায়ের ফলে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্তের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হলো। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও ইসরায়েল শুরু থেকেই আইসিসির এখতিয়ার মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।আদালত রায়ে স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রগুলোর জন্য মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগকে কোনোভাবেই খর্ব করে না। তবে একই সঙ্গে এটি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে চলমান তদন্তের পথে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত বাধা দূর করেছে।উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৭০ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ৭১ হাজার ১০০ জনের বেশি। যদিও ১০ অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবে গাজায় মানবিক পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ইসরায়েল এখনও ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে, যা যুদ্ধবিরতির মানবিক প্রোটোকল লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আইনি ভিত্তি কী?
0
Share.