সোমবার, ফেব্রুয়ারী ২৬

প্যারোলের শর্ত ভঙ্গ করায় ফের কারাগারে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি জঙ্গি

0

ডেস্ক রিপোর্ট: প্যারোলের শর্ত ভঙ্গ করায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মদ চৌধুরীকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ২৯ নভেম্বর লন্ডন ব্রিজে হামলাকারী উসমান খানের জঙ্গি চক্রের সদস্য এই ব্যক্তি। ২০১২ সালে উসমানসহ ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে পাঠিয়েছিল একটি ব্রিটিশ আদালত। লন্ডন ব্রিজে হামলার পর প্যারোলে মুক্তি পাওয়া অপরাধীদের ঝুঁকির মাত্রা পুনর্বিবেচনার অংশ হিসেবে মোহাম্মদ চৌধুরীকে ফের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ২০১০ সালে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বোমা হামলা ও বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন লন্ডন মেয়র বরিস জনসনের মতো ভিআইপি ব্যক্তিদের ওপর হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে উসমান খান ও মোহাম্মদ চৌধুরীসহ ৯ জন দোষী সাব্যস্ত হয়। এদের অধিকাংশ পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত হলেও দুজনের জন্ম বাংলাদেশে। এই জঙ্গি চক্রকে ‘নাইন লায়ন’ হিসেবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদার অনুপ্রেরণায় জঙ্গিবাদে জড়ালেও সংগঠনটির সদস্য ছিল না তারা। এই অভিযোগে ২০১২ সালে আদালতের দেওয়া রায়ে চৌধুরীকে ১৩ বছর ৮ মাসের সাজা দেওয়া হয়। রায়ে তাকে ওই হামলাকারী চক্রের একজন মূলহোতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ কয়েদি বিবেচিত হয় সে। অর্ধেক কারাবাসের পর ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু মুক্তির পর প্যারেলোর শর্ত ভঙ্গের দায়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। ২০১৯ সালে তাকে পুনরায় মুক্তি পাওয়ার পর আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার সময় বিচারক সবাইকে ইসলামি উগ্রবাদী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। বিচারক অ্যালান উইলকি বলেছেন, আমার বিবেচনায় দীর্ঘ কারাবাস শেষেও জনগণের জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিরাজ করবে এই আসামীরা। তারা এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে শুধু অনির্দিষ্ট সাজাই হতে পারে উপযুক্ত। ২০০৪ সালে মোহাম্মদ যুক্তরাজ্যে আসে। আগামী বছরের শুরুতে প্যারোল বোর্ডে শুনানিতে তার মুক্তির বিষয় আলোচিত হবে। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সন্ত্রাস-অপরাধে দণ্ডিতদের আগাম মুক্তি বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। লন্ডন ব্রিজে হামলার পর আগাম মুক্তিপ্রাপ্ত উসমান খানের বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। এর ফলে মোহাম্মদের বিষয়টি ঝুঁলে যেতে পারে। উসমানের যুক্তরাজ্যের পরিবার তার কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়েছে। এবং পাশাপাশি ওই হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। লন্ডন মেট্রোপলিট্রন পুলিশের মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উসমানের পরিবার জানিয়েছে, ‘উসমান যা করেছে তাতে আমরা শোকাহত, দুঃখিত। সার্বিকভাবে তার কাজের নিন্দা জানাচ্ছি। ওই হামলায় আহতদের আশু সুস্থতা ও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা এই কঠিন সময়ে আমাদের পরিবারের জন্য ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়ে অনুরোধ করতে চাই।’ লন্ডন ব্রিজে উসমানের ছুরি হামলায় ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট জ্যাক মেরিট (২৫) ও চেচকিয়া জোনস (২৩) নিহত হয়। বুধবার তাদের মৃত্যু বিষয়টির অনুসন্ধান লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতে প্রকাশিত হয়।

Share.