ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে করা মন্তব্যের জন্য বিবিসি দুঃখ প্রকাশ করার পরও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মামলা করার হুমকি কমেনি, বরং বেড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে ট্রাম্প এখন ১০০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, বিবিসির বিরুদ্ধে তিনি মামলা করবেন এবং ক্ষতির পরিমাণ হিসেবে ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত চাইতে পারেন। উল্লেখ্য, গত বছর লাইসেন্স ফি বাবদ বিবিসির বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৫০০ কোটি ডলার।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, বিবিসি ‘বিভ্রান্তিকরভাবে’ তাঁর বক্তব্য সম্পাদনা করেছে। তিনি বলেন, “আমার মুখ থেকে বের হওয়া কথাগুলো তারা (বিবিসি) পরিবর্তন করেছে।”ট্রাম্প বিশেষ করে বিবিসির ‘প্যানোরমা’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত তথ্যচিত্রে তাঁর বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ জোড়া দিয়ে ভিন্ন অর্থ তৈরি করার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে বিবিসির দেওয়া ব্যাখ্যা মানতে তিনি রাজি নন।এই আইনি লড়াই বিবিসির ইতিহাসে একটি গুরুতর মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, যখন বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর মানুষের আস্থা কমছে, তখন বিবিসি তার নির্ভরযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।এরইমধ্যে বিবিসির চেয়ারম্যান সামির শাহ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘মামলাবাজ’ ব্যক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বিবিসির সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমবিষয়ক সম্পাদক কেটি রাজাল বলেন, লাইসেন্স ফি-এর অর্থ ব্যবহার করে ট্রাম্পের সঙ্গে মীমাংসা করাটা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ও বাইরে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। বিবিসি কর্তৃপক্ষ মনে করে, ভুলভ্রান্তিতে ট্রাম্পের কোনো ক্ষতি হয়নি, কারণ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারের পরও তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রে দেখানো হয়নি।বিবিসি কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মকর্তারা মনে করেন, ট্রাম্প মামলা করলে বিবিসিকে ফ্লোরিডার সেরা আইনজীবীদের নিয়োগ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।এই আইনি লড়াই এমন এক সময়ে আসছে, যখন বিবিসির তাদের সাংবিধানিক ভিত্তি—রয়েল চার্টার পরিবর্তনের দিকে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া জরুরি ছিল (যা ২০২৮ সালের শুরুতে কার্যকর হবে)। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন।কেটি রাজাল মনে করেন, বিবিসি যদি আরও আগে ভুল স্বীকার করে ভিডিও সংশোধন করত, তবে এই জটিলতা এড়ানো যেত।এদিকে, যুক্তরাজ্যের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দী চলতি সপ্তাহে দৃঢ়ভাবে বিবিসিকে সমর্থন জানিয়েছেন, অন্যদিকে ট্রাম্প বিবিসিকে ‘ভুয়া খবরের চেয়েও খারাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আইনি লড়াই এখন চূড়ান্তভাবে শুরু হওয়ার পথে।
বিবিসি ও ট্রাম্পের বিবাদ কতদূর পৌঁছালো?
0
Share.