ডেস্ক রিপোর্ট: বহু জল্পনা-কল্পনার পর ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। রোববার (১ মার্চ) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তার এ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। সরকারি ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, খামেনির মৃত্যুতে দেশজুড়ে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি পালন করা হবে। খামেনি নিজের মৃত্যুর শঙ্কায় আগেই তার উত্তরসূরি বাছাই করে রেখেছিলেন। তিনি আঁচ করতে পেরেছিলেন তিনি হয়তো এ যাত্রায় আর বেঁচে থাকতে পারবেন না। মৃত্যুর ১১ দিন আগে শেষবারের মতো জনসম্মুখে বক্তৃতা দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সেই বক্তৃতায় ইরানের জন্য প্রতিরোধক অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন তিনি। জেনেভায় যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছিল, তখন তিনি এই বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের প্রতিরোধক অস্ত্র থাকতেই হবে, যদি কোনো দেশের কাছে তা না থাকে, তাহলে সেই দেশ তার শত্রুদের পায়ের তলায় মিশে যেতে বাধ্য হয়।’ খামেনি বলেছিলেন, ‘প্রতিরোধক অস্ত্র আমাদের দেশের জন্য অতি জরুরি একটি বিষয়। আমেরিকানরা কোনো কারণ ছাড়াই এখানে নাক গলাচ্ছে। তারা বলে ‘তোমার এমন ধরনের মিসাইল থাকতে হবে, তোমার রেঞ্জ এতটুকু হতে পারবে, এর চেয়ে বেশি নয়’! এর মানে কী! তাতে তোমাদের সমস্যা কোথায়? এই ব্যাপারটা তো ইরানি জাতির।’ যুক্তরাষ্ট্রকে সেদিন কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেছিলেন, ‘তাদের কাছে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী; বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনো কখনো শক্তিশালী থাপ্পড় খেতে পারে, এতটাই শক্তিশালী যে, এরপর আর তারা উঠে দাঁড়াতে পারে না।’ এদিকে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খামেনির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক বার্তায় তাকে ‘ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি’ আখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত অভিযানে খামেনি ও অন্যান্য নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এটি শুধু ইরানের মানুষের জন্যই নয়, বরং সেইসব মার্কিনি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্যও এক কাঙ্ক্ষিত বিচার—যাদের খামেনি এবং তার রক্তপিপাসু গুন্ডাবাহিনী হত্যা কিংবা পঙ্গু করে দিয়েছিল। তিনি আমাদের গোয়েন্দা এবং অত্যন্ত উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। ইসরায়েলের সাথে মিলে আমরা এমন এক অভিযান চালিয়েছি যে, খামেনি বা তার সাথে মারা যাওয়া অন্য নেতাদের আসলে কিছুই করার ছিল না। তিনি লিখেন, ইরানের জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা খবর পাচ্ছি যে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চায় না এবং তারা আমাদের কাছে ক্ষমা বা নিরাপত্তা চাইছে। আমি গত রাতেই বলেছি, ‘এখনই সুযোগ, তারা চাইলে ক্ষমা পেতে পারে; কিন্তু দেরি করলে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই পাবে না তারা।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরপর আরও লিখেন, আশা করি, বিপ্লবী গার্ড এবং পুলিশ বাহিনী ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একাত্ম হবে এবং এই দেশটাকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। সেই প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই শুরু হওয়া উচিত। কারণ, শুধু খামেনির মৃত্যু নয়, মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বলতে গেলে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই নিখুঁত এবং ভারী বিমান হামলা পুরো সপ্তাহজুড়ে অথবা প্রয়োজনমতো বিরতিহীনভাবে চলতে থাকবে। সরাকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানে অবস্থিত তার প্রাসাদ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলার পর প্রাসাদটি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে খামেনির মরদেহ উদ্ধার করেন। হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
খামেনি মৃত্যুর আগে শেষ বক্তৃতায় যা বলেছিলেন
0
Share.