ঢাকা অফিস: দীর্ঘ প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর অবশেষে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে যাচ্ছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীর। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের দায়ের করা মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৫ মার্চ উচ্চ আদালত থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন। দুই মামলাতেই জামিন মেলায় তার জেল থেকে বের হতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি। আনিস আলমগীরের এই সংকটের শুরু গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর। ওইদিন রাতে ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট ও নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। এই মামলায় তার সাথে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছিল। পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর থেকে তিনি টানা কারাগারে ছিলেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ১৫ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা তার মোট সম্পদের ৭৭ শতাংশ। যদিও আনিস আলমগীরের পরিবারের দাবি, টকশো, কনসালটেন্সি, শিক্ষকতা এবং জমি বিক্রির বৈধ আয় থেকেই এই সম্পদ অর্জিত হয়েছে। দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে কাজ করা আনিসুর রহমান আলমগীর (আনিস আলমগীর) টেলিভিশন টকশো এবং ফেসবুকে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে সোজাসাপ্টা বক্তব্যের জন্য সমধিক পরিচিত। তার স্ত্রী শাহনাজ চৌধুরীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, কোনো অপরাধ নয় বরং ‘স্বাধীন মত প্রকাশের’ কারণেই তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলের ঘানি টানতে হয়েছে। অবশেষে আদালতের রায়ে সেই বন্দি দশার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
দীর্ঘ প্রায় তিন মাস কারাভোগের পর মুক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর
0
Share.