বাংলাদেশ থেকে চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল ১৭ বছর বয়সী মতিউর রহমানের। বাসের হেলপার হিসেবে প্রতিদিনের মতো কাজে বেরিয়েছিলেন তিনি। গন্তব্যের পথে ভাটিয়ারীর জাহাজভাঙা শিল্প এলাকার কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ তখন প্রাণ বাঁচাতে দিক্বিদিক ছুটছেন। কিন্তু অন্যদের মতো নিজেকে বাঁচিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাননি মতিউর। বিপদের মধ্যে পড়ে থাকা মানুষদের উদ্ধারে ছুটে যান তিনি। একের পর এক মানুষ যখন বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে ছিলেন, তখন তাদের উদ্ধারে সহযোগিতা করতে ইয়ার্ডের ভেতরে ঢুকে পড়েন এই কিশোর। অন্যের জীবন বাঁচানোর চেষ্টাই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নেয় তার নিজের জীবন। বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মতিউর। পরে তাকে উদ্ধার করে দুপুরের দিকে চট্টগ্রাম নগরের ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মতিউর রহমান সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের শীতলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. হানিফ। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই পরিবারের জন্য উপার্জনের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন তিনি। প্রতিদিনের মতো কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়া ছেলেটি যে আর জীবিত হয়ে ঘরে ফিরবে না, তা ভাবতে পারেননি পরিবারের কেউ। মতিউরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শীতলপুর গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। যে কিশোর নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যদের উদ্ধারে এগিয়ে গিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তার নিথর দেহই ফিরল বাড়িতে। চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহমুদ হাসান বলেন, জুমার নামাজের ঠিক আগে সীতাকুণ্ড থেকে তিনজন রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে ইমার্জেন্সিতে এবং অন্যজনকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এছাড়া মতিউর রহমান নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়।
বিপদে পড়া মানুষদের বাঁচাতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল মতিউরের
0
Share.