সোমবার, অগাস্ট ১৭

নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনগণের রয়েছে অভূতপূর্ব সমর্থন: মাহদী আমিন

0

ঢাকা অফিস: নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব সমর্থন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ‘১৮০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, জনগণের আর বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা দল বিএনপির একটি আবেগ, অনুভূতি এবং আকাঙ্ক্ষার যে সম্পর্ক রয়েছে আমরা সেটা দেখেছি। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে যখন জনগণের ঢল নেমেছিল বিশ্ব ইতিহাসের সবচাইতে বড় সেই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর, আমরা যখন আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল হয়েছিল তখন দেখেছিলাম উনার জানাজাতে আরেকবার কীভাবে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সব শ্রেণিপেশার মানুষ নেমে এসেছিল। এই দলটির প্রতি, নেতৃত্বের প্রতি, আজকে যারা সরকারের দায়িত্বে রয়েছেন তাদের প্রতি জনগণের এই অকুন্ঠ ভালোবাসা আমরা দেখেছি। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায়ও প্রধানমন্ত্রী যেখানে গিয়েছিলেন দেশজুড়ে সেখানে জনস্রোত নেমে এসেছিল। গত ছয় মাসের অজস্র জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে যেখানেই গিয়েছেন ঠিক একইভাবে জনগণের ঢল নেমে এসেছে। জনগণের সেই আস্থা এবং বিশ্বাসকে ধারণ করে বর্তমানে আমাদের যে সরকার সেটি বারবার জনগণের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, সরকারের ছয় মাসের সবচাইতে ডিফারেন্ট একটা বিষয় যেটা চোখে পড়ার মতো, নির্বাচনী ইশতেহারকে ধারণ করে সেখানকার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য অবিরত কাজ করে চলেছে। আমরা দেখেছি এই ছয় মাসে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কিভাবে সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমে অনুরণিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আজকের এই যে সরকার, তার পেছনে একটা দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী দেড় দশকের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম যেখানে গুম, খুন, হামলা, মামলা, মানবাধিকার লঙ্ঘন পেরিয়ে বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে রাজপথে ছিল। সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আমরা দেখেছি প্রতিটি শ্রেণি এবং পেশার মানুষ এবং গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এক হয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় জনমানুষের যে আকাঙ্ক্ষা এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা যেখানে মানবাধিকার থাকবে, বাক স্বাধীনতা থাকবে, আইনের অনুশাসন থাকবে, আমরা ঠিক সেটিই দেখেছি সরকারের এই কার্যক্রমে। তিনি বলেন, গত ছয় মাসে বাক স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন দেখেছি, যেখানে একট বারের জন্য কখনো কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। যেখানে আমরা দেখেছি সর্বোচ্চ বাক স্বাধীনতা, অনেক সময় সেটা সীমা লঙ্ঘন করেছে, আমরা দেখেছি কীভাবে উসকানি দেওয়া হয়েছে, অসভ্য আচরণ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য এবং সহনশীলতার মাধ্যমে ঠিক যেভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র এস্টাবলিশ করেছিলেন সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার। মাহদী আমিন বলেন, আমরা দেখেছি অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং স্বতঃস্ফূর্ত সংসদ, যেখানে মাননীয় সংসদ সদস্যরা একে অপরের আলোচনা করেছেন, সমালোচনা করেছেন, যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেছেন। দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন যে, সংসদ গঠনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে। সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধিত যে অধ্যাদেশ, সেটিকে সংসদে আইনে রূপান্তরের মাধ্যমে সন্ত্রাসী একটি রাজনৈতিক সংগঠন যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে সংসদে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা দেখেছি জাতির বীরশ্রেষ্ঠ যে সন্তানেরা রয়েছে, তাদের নামে সংসদের গ্যালারিগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। বিএনপির এই সরকারের ঐতিহ্য সেই সুমহান দর্শন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং সেটিকে ধারণ করেই ভিন্ন মত, পথ, ধর্ম, বর্ণ, পাহাড়, সমতলের, সক্ষম, অক্ষম প্রতিটি মানুষকে এক কাতারে নিয়ে এসে আমাদের এই সরকার নিশ্চিত করেছে সকলের স্বাধীনতা, সকলের অধিকার এবং সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। যার পাথেয় আমাদের সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুনিশ্চিত করা।

Share.