বাংলাদেশ থেকে নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কলমাকান্দায় রোপণ করা গাছের চারা ও সুরক্ষাবেষ্টনী ভেঙ্গে ফেলার ঘটনাকে ‘বৃক্ষ হত্যা’ ঘোষণা দিয়ে জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তবে ঘটনার দুই দিন পার হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে জোরালো কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি ক্ষোভও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকালে কলমাকান্দা উপজেলার বাবনি এলাকায় উপড়ে ফেলা গাছের চারা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এসব কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “যে যাই বলি । এটি সামান্য কোন ঘটনা নয়।গাছ শুধু গাছ নয়, এটি একটি জীবন। আমি বলব, এই গাছগুলোকে হত্যা করা হয়েছে। যারা এ কাজ করেছে, আল্লাহ যেন তাদের হেদায়েত করেন।” তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মানুষের জীবনধারণে গাছের ভূমিকা অপরিসীম। একটি ছোট চারা বড় গাছে পরিণত হতে দীর্ঘ সময়, শ্রম ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। এমন অবস্থায় রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে গাছের চারা ও সুরক্ষাবেষ্টনী উপড়ে ফেলার ঘটনাকে তিনি নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন। এতে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি,“প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল—কে বা কারা এই গাছগুলোকে হত্যা করেছে, তা দ্রুত খুঁজে বের করা। কিন্তু দুই দিন চলে গেলেও তারা কিছুই করতে পারেনি। আমি প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দিচ্ছি, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাছ হত্যাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে।” গাছ কাটার দুর্বৃত্তদের এমন কর্মকাণ্ডে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম বন্ধ হবে না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বরং একই এলাকায় নতুন করে আরও এক হাজার ২০০টি গাছের চারা রোপণ করা হবে বলে জানান ডেপুটি স্পিকার। শুক্রবার বেলা ২টার দিকে কলমাকান্দা-নেত্রকোণা আঞ্চলিক সড়কের বাবনি এলাকায় এক হাজার ২০০ চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর আগে তাঁর নির্দেশনায় গত ৫ আগস্ট উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের তত্ত্বাবধানে ওই সড়কের পাশে পাঁচ শতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “রোপণ করা এই গাছগুলো শুধু সরকারের সম্পদ নয়, এগুলো আমাদের সবার সম্পদ। গাছ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একটি গাছ রক্ষা করা মানে একটি জীবন রক্ষা করা।একে অবশ্যই গুরুত্ব দেয়া একান্ত প্রয়োজন।” এসময় পস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মুনমুন জাহান লিজা, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (বারহাট্টা সার্কেল) সাব্বির হাসান, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. খায়েরসহ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বৃক্ষ হত্যায় জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্ৰেপ্তারের নির্দেশ দিলেন ডেপুটি স্পিকার
0
Share.