ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

0

বাংলাদেশ থেকে যশোর প্রতিনিধি: ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে বিভক্তি ও অশান্তি সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩ তম জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার যশোর শহরের ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেছেন, ধর্ম বিশ্বাস ও চেতনার বিষয়। এটিকে রাজনৈতিক গুটি হিসেবে ব্যবহার করে কেউ যেন অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে রাষ্ট্রে কেউ বঞ্চিত বা অতিরিক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন না বলেও সরকারের পক্ষ থেকে বার্তা দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে কেউ সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইলে, বিভক্তির রেখা টানতে চাইলে কিংবা ধর্মকে রাজনীতির গুটি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলে তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ধর্ম নিছক একটি বিশ্বাস ও চেতনার বিষয়। এটিকে রাজনীতির মাঠে নিয়ে এসে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, ধর্ম ও বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে সমাজে কোনো মানুষ যেন পিছিয়ে না পড়েন, আবার কেউ যেন অতিরিক্ত সুবিধাও না পান, সেটিই নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাষ্ট্র ও সরকারের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। যশোরে ধর্মকে পুঁজি করে কেউ অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে অমিত বলেন, যে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাই হোন কিংবা যে ধর্মের অনুসারীই হোন, বাংলাদেশকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা করা হলে সম্মিলিতভাবে তাদের প্রতিহত করা হবে। সরকার ও রাষ্ট্রের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও তাদের বয়কট করা হবে। তিনি আরও বলেন, এই যশোরের মাটিতে একজন জনপ্রতিনিধি বা সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি যতটুকু অধিকার ভোগ করেন, একই অধিকার সাধারণ মানুষ ও তাদের সন্তানদেরও রয়েছে। নিজেদের দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। ধর্ম, রাজনৈতিক দর্শন বা বিশ্বাসের পার্থক্যের ঊর্ধ্বে সবাই বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ যে নতুন আশা নিয়ে সামনে এগোতে চায়, সেই আশা যেন দুরাশায় পরিণত না হয়। এজন্য সমাজে সত্য, পারস্পরিক বিশ্বাস, ভালোবাসা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর আগে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে যশোর শহরের ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন করে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে দুপুর ১২টার দিকে টাউন হল মাঠ থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দজী মহারাজ শোভাযাত্রাটি উদ্বোধন করেন। আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম, যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাকর্মী ও ভক্তরা। মঙ্গল শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বেজপাড়ার সর্বজনীন পূজা মণ্ডপ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এদিকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা, গীতা পাঠ, আলোচনা সভা, প্রসাদ বিতরণসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

Share.