স্পোর্ট ডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর আগামীকাল শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে ২০ দলের এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের আসরের সবচেয়ে আলোচিত ও উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি লড়াই। তবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্রুপপর্বে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। এবার সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) পাকিস্তানকে কলম্বোতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়। ভারতের মাটিতে খেলতে না চাওয়ায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান সরকার ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল। এসএলসি মনে করছে, এ ধরনের সিদ্ধান্তে শ্রীলঙ্কা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং একই সঙ্গে দেশটির পর্যটন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর থেকে এখনো অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে দ্বীপ রাষ্ট্রটি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণার পর থেকেই পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয়। তবে চার দিন পার হলেও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত জানালেও আইসিসিকে সরাসরি কোনো চিঠি দেয়নি। আইসিসি তাৎক্ষণিকভাবে নমনীয় অবস্থান নিয়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়। এমনকি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন নিশ্চিত করতে নীরব কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি বিশেষ প্রতিনিধিও নিয়োগ করেছে বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থাটি। এএফপি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘যেকোনো ধরনের অনুপস্থিতি বা ম্যাচ বয়কট দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে এসএলসির বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি এবং পর্যটন খাতে প্রত্যাশিত ও সম্ভাব্য রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি। দুই দেশের বোর্ডের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক, ক্রিকেটীয় উন্মাদনা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। উদ্বোধনী দিনে অন্যতম আয়োজক ভারত নিজেদের মাঠে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামবে। একই দিনে কলম্বোতে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। বিশ্বকাপে সালমান আলি আগা ও বাবর আজমদের প্রতিটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে আরেক আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায়। যেখানে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। যদিও লিগপর্বের ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান, তবে পরবর্তীকালে সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনালে দুই দল মুখোমুখি হলে সে ক্ষেত্রে আবারও সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান তাদের আগের সিদ্ধান্তে অটল থাকবে নাকি সরে আসবে, তা সময়ই বলে দেবে। অতীতেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার নজির রয়েছে পাকিস্তানের। এ ছাড়া ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজনের এখনও এক সপ্তাহের বেশি সময় হাতে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষের আলোচনায় কী অগ্রগতি হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। শুরুতে ম্যাচ বয়কটের সুনির্দিষ্ট কারণ না জানালেও পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানান, রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ায় তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য ভারত ম্যাচ বয়কট: পাকিস্তানকে আবারো ভাবতে বললো শ্রীলঙ্কা
0
Share.