যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে যেভাবে কাফফারা দিতে যাচ্ছে

0

ডেস্ক রিপোর্ট: ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়াবে না ইরানের সঙ্গে। কারণ ট্রাম্প আগ্রহী না , মুখে তিনি যতো কথাই বলেন না কেন? মুখে তিনি বলছেন , দরকারে স্থলে সেনাবাহিনী পাঠাবেন। কোনো সমঝোতা বৈঠক নয়। কিন্তু বাস্তবে তার ওপর দেশের মানুষের চাপ রয়েছে। আছে যুক্তরাষ্ট্রের তিক্ত অভিজ্ঞতা। যেমন, ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে শেষে যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলে নিজেদের গুটিয়ে নিতে হয়েছিল। আজ বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন সিনেটে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে । প্রস্তাবটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে আসবে। এদিকে ইসরায়েলের নেতানিহুয়াহ গত মঙ্গলবার বলেছেন , তাদের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। হরমুজ প্রনালী বন্ধ । দেখা দিবে গ্যাস ও বিদ্যতের সংকট। বিশ্ববাজার ব্যবস্থায় অস্থির হয়ে উঠছে। ফলে এর জন্য সবাইই দায়ী করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে। এদিকে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপক হামিদ দাবাশি মিডলইস্টআই’কে নিজের মতামত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান সহজে শর্তহীনভাবে নতজানু হবে না। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এই যুদ্ধ ইরানিদের শাসকদের হাত থেকে ‘মুক্ত’ করার জন্য নয়—বরং তা তাদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য করে ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদী নিয়ন্ত্রণে আবদ্ধ করার কৌশল। এই প্রক্রিয়ায় পাহলভিরা দালালের ভূমিকায় নেমেছেন। পাহলভি রাজবংশের অবশিষ্ট অংশের একধরনের বিভ্রান্ত ফ্যাসিবাদ। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে ইরানিরা যাদের দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনকে উৎখাত করেছিল, সেই পাহলভি বংশের নেতা রেজা পাহলভি ক্ষমতা ফের দখলের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু ইরানি যখন যেমন পাহলভি রাজবংশকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে তেমনই খামেনিকে ক্ষমতায় এনেছিল। কিছু অসন্তোষ খামেনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে থাকলেও ইরানিরা এক বিষয়ে একমত যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এমন অমানবিক হামলা আচমকা করে মোটেই ভালো করেনি। ফলে ইরানিরা এখন ফুঁসে উঠছে। পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে ইসরায়েল নিজেদের ‘গ্যারিসন রাষ্ট্র’ আরও যে বিস্তৃত করতে চায়, সম্ভব হলে পুরো ফিলিস্তিন, লেবাননের বেশ কিছু অংশ, সিরিয়ার কিছু অঞ্চল, এমনকি তারও বাইরে পর্যন্ত গ্রাস করতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় –এটা ইরানিরা না বোঝার কথা নয়। ফলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে বড়ো কাফফারা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

Share.