সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত জনগনের ইটের রাস্তা গেল দুদক কর্মকর্তা বশির আহমদের ব্যক্তিগত বসত বাড়িতে!

0

বাংলাদেশ থেকে বিশেষ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ৮ নং মাধবপুর ইউপি ৩ নং ওয়ার্ডের লংগুরপার গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী আলোর মুখ দেখলেও বঞ্চিত হয়েছেন অনেকেই বিশেষ করে (হিন্দু ধর্মের অনেক পরিবার) সংখ্যালঘু পরিবারগুলো মানুষেরা। জানা যায় গ্রামের পূর্বদিকে অমর ও সমর পাল এর বাড়ির পশ্চিম ও সুশান্ত শীলের বাড়ির পূর্ব হইতে মেইন রাস্তা হইতে মাসুক মিয়ার বাড়ি এবং মাসুক মিয়ার বাড়ির পূর্ব হইতে মাখন পাল ও টলু পালের বাড়ি পর্যন্ত কাঁচা মাটির রাস্তা হওয়ায় বৃষ্টি পড়লে প্রায় ৫০টি পরিবারের যাতায়াতের খুবই অসুবিধা হয়। সেজন্যই তারা দীর্ঘদিন হইতে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরাবর অনেকবার আবেদন করে আসছিলো এলাকাবাসী। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২০২৩ ও ২০২৪ ইং সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশে তখনকার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় চেয়ারম্যান আসিদ আলী ও ঠিকাদার রাস্তাটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে দুই দুইবার উদ্যোগ নিয়েও রাস্তাটি ইট সোলিং হয়নি। কিন্তু গত ১০ই ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং দেখা যায় যে,মেইন রাস্তা হইতে ইট সোলিং এর কাজ শুরু হয় কিন্তু রাস্তাটি মাসুক মিয়ার বাড়ির সামনে না গিয়ে দুদক এ কর্মরত বশির আহমদের বাড়ির উঠানে গিয়ে শেষ হয়। প্রথমে বশির আহমদের বাড়ি থেকে কাজটি শুরু করায় অনেকেই ভেবেছিলেন তাহার ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে রাস্তাটি তৈরি করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মোতাহীর আলী কাজটি তদারকি করায় এবং তিনি জানান যে, বশির আহমদ ব্যক্তিগতভাবে পিআইও এর মাধ্যমে বশির আহমদের বাড়ি পর্যন্ত কাজের অনুমোদন করিয়েছেন বশির আহমদ। অথচ সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ইটের রাস্তা একক ভাবে কারো বাড়ির রাস্তা তৈরি করার কোনো নিয়ম নেই।

এই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য(মেম্বার) মোতাহীর আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রথমে রাস্তাটি বরাবরই নিয়ে গেছিলাম এরপর আমার ব্যক্তিগত কাজের জন্য আমি সেখান থেকে চলে আসি সেই সময়ে রাস্তার কাজে নিয়োজিত লোকদের দিয়ে দুদক কর্মকর্তা বশির আহমদ উনার বাড়ির রাস্তাটিতে কাজ করেন বেশ কিছু জায়গায় কাজ হয়ে যাওয়ার পরে আমি সেখানে উপস্থিত হই পরে আমি সাথে সাথে পিআইও কে ফোন করে বিষয়টি জানাই তখন তিনি বলেন যে উনি যখন করিয়ে নিয়েছেন তাহলে দিয়ে দেন। পরে আমাকে দুদক কর্মকর্তা বললেন যে উনার সাথে পিআইও সাহেবের কথা হয়েছে আগেই। পিআইও সাহেব বলায় আমি কাজটি করে দিয়েছি। এই রাস্তা নিয়ে কেউ তো আন্দোলন করে নাই এবং কেউ তো এই বিষয় এ দাবি করে নাই। আমাকে পিআইও সাহেব যেভাবে বলছে আমি সেভাবে করেছি।

এই বিষয়ে পিআইও এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আসার আগেই কাজটি হয়েছে। এই বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসে নাই। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। তবে আপনি বলায় আমি এই বিষয়ে খবর নিয়েছি।আচ্ছা তারপরও আমি আবারো এই বিষয়টি দেখতেছি এবং মোতাহীর আলির সাথে কথা বলতেছি। এই সময় এই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য(মেম্বার) মোতাহীর আলী যে পিআইও কে দায়ী করেছেন যা আমাদের কাছে রেকর্ড আছে বললে। পিআইও বলেন, আমি বিষয়টি দেখতেছি এবং মোতাহীর আলির সাথে কথা বলতেছি। আর এখনো ফাইনাল কোনো বিল দেই নাই আমি।  এই সময় পিআইও র সাংবাদিককে উনার সাথে দেখা করতে বলেন এবং চায়ের আমন্ত্রণ জানান।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,  মোতাহীর আলিকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন আমি বিষয়টি দেখতেছি। এই কথার জবাবে এই প্রতিবেদক যখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেন, মোতাহীর আলিকে আপনার কাছে পাঠানোর দায়িত্ব আমাদের নয় তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন,  আমি স্বরজমিনে সেখানে যাবো বিষয়টি দেখবো আর এরকম কোনো দুর্নীতির কাজ করে থাকে বা হয়ে থাকে তাহলে আমি বিষয়টির ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিবো আপনাকে কথা দিলাম।

এই বিষয়ে জানতে বশির আহমদের মোবাইলে কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নাই।

এলাকার ৫০ টি পরিবার এই দুর্নীতিগ্রস্থ কাজের সাথে জড়িত সকল কর্মকর্তা ও মেম্বারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে তদন্ত করে এর সুবিচার আশা করছি। দুদক এ কর্মরত বশির আহমদ পি আই ও সাহেবকে ম্যানেজ করে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য আমাদের ৫০টি পরিবারের ক্ষতি করতে পারেন না। তাই সরজমিনে তদন্ত করে সঠিক বিচার এবং আমাদের রাস্তাটি সঠিক ভাবে সঠিক জায়গা পর্যন্ত তৈরি করার জন্য আমরা আবেদন জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য যে, এই এই দুর্নীতিবাজ দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও তার বিরুদ্ধে তেমন একটি প্রশাসনিক ভাবে ভূমিকা নিতে দেখা যায় না, প্রশাসনিক এমন নীরবতা দেখে যেমন আতঙ্কিত থাকেন এলাকাবাসী তেমনি কয়েকগুণ বেড়ে যায় দুদক কর্মকর্তা বশির আহমেদের দুর্নীতি তাই এলাকাবাসীও সুধীজন মনে করেন প্রশাসনিক উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি করে বশির আমাদের সকল দুর্নীতির বিচার করা খুবই জরুরী।

Share.