পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ: শান্ত

0

স্পোর্টস ডেস্ক: টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্ত বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় উন্নতির জায়গা পেস বোলিং ইউনিট। গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে সর্বশেষ কয়েকটি সিরিজে পেস বোলিংয়ের ওপর ভরসা করে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তানের বরাবরই শক্তির জায়গা পেস বোলিং। বিশ্বের অনেক নামিদামি পেসার উঠে এসেছে দেশটি থেকে। তবে বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিটকে এগিয়ে রাখছি। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সিরিজের প্রথম টেস্টের আগে শেষ অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। অনুশীলনের পর মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে আসেন অধিনায়ক শান্ত। শান্ত বলেন, ‘পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে দুই দলেরই ভালো। তবে আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন আমি বলব, আমাদের পেস বোলিং আক্রমণ হয়তো সামান্য একটু আগায় থাকবে। গত কয়েক বছর যদি আমি দেখি, ওরা যেভাবে বোলিং করছে….(বাংলাদেশের পেসাররা)। কিন্তু পাকিস্তান নিয়ে যখনই আমরা কথা বলি সবসময় ওদের পেস বোলিংয়ের প্রসঙ্গ উঠে আসে। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে তারা খুবই ভালো দল এবং খুব ভালো পেস বোলিং সাইড। কিন্তু লাস্ট কয়েক বছর আমাদের পেস বোলাররা যেভাবে বল করেছে, তাদের ক্রেডিট দিতেই হবে।’ পেসাররা ভালো ছন্দে থাকায় তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত প্রত্যাশা করেন অধিনায়ক। তবে ব্যাটারদের অন্তত নিজেদের দায়িত্বটা পালন করতে হবে, সেটাও মনে করিয়ে দিলেন তিনি। দুই দিকেই ভালো করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সাইকেলে ঘরের মাঠে বেশিরভাগ ম্যাচ জিততে চান শান্ত। টেস্ট অধিনায়ক বলেন, ‘পেস বোলাররা অবশ্যই আমাকে অতিরিক্ত সাহয্য করবে, কারণ ওরা অনেক উন্নতি করেছে। সাদা বলের ক্রিকেটে তারা যেকোনো কন্ডিশনে ভালো বল করছে। সবাই ভালো অবস্থায় আছে। আমি অধিনায়ক হিসেবে চাইব সর্বশেষ দুই বছরের যে সাইকেল আছে ঘরের মাঠে বেশিরভাগ ম্যাচে যেন আমরা জিতি। ব্যাটার হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে দলের কাছে চাই যাতে প্রথম ইনিংসটা আমরা ভালো খেলি। এই চ্যালেঞ্জটা যদি আমরা ঠিকভাবে নিতে পারি আমার মনে হয় এই সাইকেলটা আরও ভালো হবে।’ সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সিরিজসেরা হয়েছেন নাহিদ রানা। পেস বোলিংয়ে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে নজর কেড়েছেন পিএসএলেও। জিতেছেন শিরোপা। পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজেও আগুন ঝরিয়েছিলেন তিনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাচের আগে আলোচনায় বাংলাদেশি স্পিডস্টার। রানার প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘রানাকে একদম আমি ছোটবেলা থেকে চিনি, মানে একদমই ছোট হয়তো কেউ তখন জানতও না ওকে। আমি জানি আসলে ও কী চিন্তা করে বা ও কীভাবে আসলে নিজেকে প্রস্তুত করে এবং ও কী চায়। এই জিনিসটা আমার জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট। ওকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আসলে আমার কোনো সন্দেহ নাই। সর্বশেষ সবগুলো টেস্ট ম্যাচের সবগুলোতে ও ছিল। ও ভালোভাবে ডেলিভার করার চেষ্টা করেছে। টেস্ট ক্রিকেটে একজন অধিনায়কের অধীনে যখন এ ধরনের একটা এক্সপ্রেসিক পেস বোলার থাকে এটা অবশ্যই একটা বাড়তি সুবিধা। আশা করব এই সিরিজে ও নিজের সেরাটা দিবে এবং আমি খুবই হোপফুল যে ও যেই ফর্মে আছে, সেটা চালিয়ে যাবে।’ পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পরিকল্পনা আছে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে শান্ত বলেন, ‘হোয়াইটওয়াশ নিয়ে ওরকম ব্যক্তিগতভাবে আমি চিন্তা কখনোই করি না। ১০ দিনের খেলা পাঁচ দিন, পাঁচ দিন করে এই ১০টা দিন কীভাবে আমরা বেটার ক্রিকেট খেলতে পারি, ওদের থেকে কম্পিটিটিভ ক্রিকেট খেলতে পারি এটাতে আমি বেশি চিন্তা করি।’

Share.