তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে কড়া বার্তা চীনের

0

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই আবারও বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের শেষ দিনে শুক্রবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন শি জিনপিং। চীনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানান, তাইওয়ান প্রশ্ন “ভুলভাবে পরিচালিত হলে” দুই দেশের সম্পর্ক আবারও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও নিরাপত্তা ও কৌশলগত ইস্যুতে বেইজিং-ওয়াশিংটনের অবিশ্বাস এখনো গভীর। বৈঠকের আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, “আশা করি চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও ভালো হবে।” ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিং “খুব উষ্ণ মানুষ”, তবে তিনি “পুরোপুরি ব্যবসামুখী”। এই সফরে একদিকে যেমন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, অন্যদিকে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাণিজ্য সমঝোতা টিকবে কতদিন? ট্রাম্পের সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল গত অক্টোবরে হওয়া বাণিজ্য সমঝোতা ধরে রাখা। সেই সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল এবং চীনও গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ রপ্তানি সীমিত করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, এই সমঝোতার মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে দুই দেশ কৃষিপণ্য, গরুর মাংস এবং বোয়িং উড়োজাহাজ কেনাবেচা নিয়ে অগ্রগতি করেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, চীন ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। যদিও বাজারের প্রত্যাশা ছিল প্রায় ৫০০ বিমানের অর্ডার আসতে পারে। ফলে বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়। এনভিডিয়া চিপ ইস্যুতে অচলাবস্থা উন্নত সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে গ্রিয়ার জানিয়েছেন, NVIDIA–এর উন্নত H200 চিপ চীনে বিক্রির বিষয়ে এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। এতে বোঝা যাচ্ছে, প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ইরান ও হরমুজ নিয়েও আলোচনা ট্রাম্প চীনকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করাতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও তেলের মূল্যবৃদ্ধি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ তৈরি করছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, উভয় নেতা হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি সচল রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত গ্যাস সরবরাহের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। তাই হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্প বলেন, প্রেসিডেন্ট শি একটি সমঝোতা দেখতে চান। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে তিনি সাহায্য করতেও প্রস্তুত।

Share.