স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা নেইমার—ফুটবল বিশ্বের এক সোনালী প্রজন্মের বিদায়ের সুর বাজছে ২০২৬ বিশ্বকাপে। ফুটবলারদের এক মহাজিলহজ যখন শেষ অঙ্কে, ঠিক তখনই সিংহাসনের নতুন উত্তরাধিকারী হতে প্রস্তুত হচ্ছে একঝাঁক নতুন প্রতিভা। নামের ভারে এখনো হয়তো তাঁরা কিংবদন্তিদের সমকক্ষ হননি, তবে পায়ের জাদুতে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য তাঁদের রয়েছে। ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপে বিশ্বমঞ্চ মাতাতে পারেন, এমন পাঁচ তরুণ তুর্কিকে নিয়ে এই আয়োজন। লামিনে ইয়ামাল (স্পেন) তালিকায় সবার আগে আসবে বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালের নাম। ক্লাব ফুটবলে ইতিমধ্যেই যিনি বৈশ্বিক আইকন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে এবার পরীক্ষাটা স্পেনের জাতীয় দলের জার্সিতে। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি ড্রিবলিংয়ের রেকর্ড গড়া ইয়ামালের ওপরই ভরসা করছে স্প্যানিশরা। এস্তেভাও উইলিয়ান (ব্রাজিল) ব্রাজিলের হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণের অন্যতম ট্রাম্পকার্ড হতে পারেন এস্তেভাও উইলিয়ান। ইয়ামালের সমবয়সী এই পালমেইরাস ওয়ান্ডার কিড ইতিমধ্যেই ইংলিশ ক্লাব চেলসির নজর কেড়েছেন। তবে সেলেসাওদের মূল একাদশে রাইট উইংয়ে জায়গা করে নিতে তাঁকে লড়াই করতে হবে অভিজ্ঞ রাফিনিয়ার সঙ্গে। আর্দা গুলের (তুরস্ক) রিয়াল মাদ্রিদের এই তরুণ মিডফিল্ডার ক্লাব ফুটবলে নিজের জাত চিনিয়েছেন। দীর্ঘ দুই যুগ পর বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তুরস্ক। তুর্কিদের এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন কতদূর যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে গুলেরের সৃষ্টিশীল ফুটবল কৌশলের ওপর। ইতিমধ্যেই দেশের ফুটবলের বড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছেন তিনি। আর্লিং হল্যান্ড (নরওয়ে) ২৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে নরওয়েকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেওয়ার মূল নায়ক আর্লিং হল্যান্ড। বাছাইপর্বে ১৬ গোল করা ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিন নিশ্চিতভাবেই বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়াবেন। তবে গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স ও সেনেগালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে নরওয়েকে, যেখানে হল্যান্ডের আসল পরীক্ষা নেবে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা। রায়ান চেরকি (ফ্রান্স) তারকাখচিত ফরাসি স্কোয়াডে রায়ান চেরকিকে নিয়ে হয়তো আলোচনা একটু কম, তবে এই মিডফিল্ডার যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। উইংয়েও সমান পারদর্শী চেরকি সদ্য সমাপ্ত প্রিমিয়ার লিগে ১১টি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি ৪টি গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। প্রথম বিশ্বকাপেই লেস ব্লুসদের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠার সব রসদ রয়েছে তাঁর। বিশ্বকাপের সবুজ গালিচায় নতুন রাজাদের চেনার অপেক্ষায় এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব।
বিশ্বকাপে মাঠ কাঁপাতে প্রস্তুত একঝাঁক তরুণ তুর্কি
0
Share.