যুদ্ধবিরতির আভাসে বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

0

ডেস্ক রিপোর্ট: ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এই চুক্তির ফলে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা কিছুটা শান্ত এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্থানীয় সময় ০৪:৫৮টা পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৭ সেন্ট বা ০.৮৯ শতাংশ কমে ৯৬.৯২ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ সেন্ট বা ০.৮১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৯৫.২৪ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা কিছুটা থিতু হয়েছে। এর আগে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি, কুয়েতে ইরানের হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর কাছে মার্কিন সামরিক অভিযানের খবরের জেরে গত বুধবার ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের দামই প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছিল। গতকাল বুধবার (০৩ জুন) রাতে ইসরায়েল ও লেবানন উভয়েই যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ঘোষণা দেয়। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি বৃহত্তর চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় খুব দ্রুতই বাজারে এর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কারণ, ইরান শুরু থেকেই যেকোনো স্থায়ী চুক্তির জন্য লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের শর্ত দিয়ে আসছিল। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হলেও আলোচনায় এখনো চূড়ান্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি; বর্তমানে উভয় পক্ষই খসড়া প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই যুদ্ধ নিয়ে তোলপাড় চলছে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) গত বুধবার ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে। তবে এটি কার্যকর হতে হলে সিনেটের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য ‘ভেটো’ ক্ষমতা বাতিলের জন্য উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে আমেরিকার অপরিশোধিত তেলের মজুত ৮০ লাখ ব্যারেল কমে ৪৩ কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকরা যেখানে ৪০ লাখ ব্যারেল মজুত কমতে পারে বলে আভাস দিয়েছিলেন, বাস্তবে তার তার দ্বিগুণ হ্রাস হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গত মঙ্গলবার এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, মে মাসে চীনের তেল আমদানি মার্চ মাসের তুলনায় দৈনিক ৬০ লাখ ব্যারেল কমলেও, বৈশ্বিক মজুত যেভাবে কমছে তা অব্যাহত থাকলে গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ চাহিদার মরসুমে তেলের মজুত ঝুঁকিপূর্ণ স্তরে নেমে যেতে পারে। ডাচ বহুজাতিক ব্যাংক আইএনজি এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, “তেলের মজুত বাজারে একধরনের স্বস্তি দিলেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ যদি দ্রুত শুরুও হয়, তাহলেও বাজার আগের অবস্থায় ফিরতে বেশ সময় নেবে। এর ফলে বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হতে পারে, যা আগামীতে দাম আবারও বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।”

Share.