ডেস্ক রিপোর্ট: নতুন হিজরি বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে মুসলিম বিশ্ব। এ উপলক্ষে ইসলামের পবিত্রতম স্থান কাবা শরিফেও চলছে বিশেষ প্রস্তুতি। আজ সোমবার (১৫ জুন) রাতে নতুন গিলাফে সজ্জিত হবে পবিত্র কাবা। নতুন হিজরি বছরকে স্বাগত জানাতে ইসলামের পবিত্রতম এই স্থানে সম্পন্ন হবে বহু শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী কিসওয়া পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা। খাঁটি রেশম, সোনালি ও রুপালি সূচিকর্মে তৈরি নতুন গিলাফে মোড়ানো হবে কাবা শরিফ। সৌদি আরবের বিশেষজ্ঞদের কয়েক মাসের শ্রম, নিখুঁত কারিগরি দক্ষতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই নতুন কিসওয়া মুহাররম মাসের প্রথম দিন থেকেই কাবা শরিফকে নতুন রূপে সজ্জিত করবে। সৌদি আরবের ইংরেজি ভাষার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেট বলছে, সারা বিশ্বের মুসলমানরা যখন নতুন হিজরি বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন পবিত্র কাবা শরিফও নতুন কিসওয়া গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইসলামের পবিত্রতম এই স্থানে প্রতি বছর নতুন কিসওয়া পরানোর ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এই প্রক্রিয়া একদিকে যেমন মসজিদুল হারামের প্রতি সৌদি আরবের যত্ন ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন, অন্যদিকে কিসওয়া তৈরিতে ব্যবহৃত সূক্ষ্ম কারিগরি দক্ষতা ও নিখুঁত প্রস্তুতিকেও সামনে তুলে ধরে। মূলত নতুন হিজরি বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ মুহাররম-এর ভোরে কিসওয়া পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে। বর্তমান হিসাবে হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১ মুহাররম ১৪৪৮ হিজরি সৌদি আরবে মঙ্গলবার (১৬ জুন) শুরু হওয়ার কথা। সে হিসেবে সোমবার (১৫ জুন) রাত থেকে মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরের মধ্যে কাবা শরিফে নতুন কিসওয়া পরানো হবে। সৌদি গেজেট বলছে, কাবা শরিফের কিসওয়া তৈরির কাজ কয়েক মাস আগে থেকেই শুরু হয় কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সে। সেখানে বিশেষজ্ঞরা খাঁটি প্রাকৃতিক রেশম দিয়ে কিসওয়া তৈরি করেন এবং সোনালি ও রুপালি প্রলেপযুক্ত সুতা দিয়ে তাতে নকশা ও কোরআনের আয়াত সূচিকর্মের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন। কিসওয়া পরিবর্তনের সময় যত এগিয়ে আসে, মসজিদুল হারামেও প্রস্তুতি তত জোরদার করা হয়। নতুন কিসওয়ার বিভিন্ন অংশ নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেয়া হয়, যাতে স্থাপনের সময় কোনও সমস্যা না হয়। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা সূচিকর্ম, ইসলামী অলংকরণ এবং কোরআনের আয়াত খচিত অংশগুলো চূড়ান্তভাবে পরীক্ষা করে দেখেন। কিসওয়া পরিবর্তনের আগের রাতে বিশেষায়িত কারিগরি ও প্রকৌশল দল পুরো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হয়। প্রথমে পুরোনো কিসওয়ার সঙ্গে যুক্ত সোনালি অলংকরণ ও সূচিকর্ম করা অংশগুলো খুলে ফেলা হয়। এরপর ধাপে ধাপে পুরোনো কিসওয়ার বিভিন্ন অংশ সরিয়ে কাবা শরিফের চার পাশে নতুন কিসওয়া স্থাপন করা হয়। পুরো কাজটি নির্দিষ্ট ক্রম অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়, যাতে প্রতিটি অংশ একে অপরের সঙ্গে নিখুঁতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। একই রাতে কাবা শরিফকে ঘিরে থাকা সূচিকর্ম করা বেল্ট, দরজার পর্দা এবং কিসওয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য সোনালি অলংকরণও স্থাপন করা হয়। কিসওয়া পরিবর্তন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক কাজ নয়; এর রয়েছে গভীর ধর্মীয় ও সভ্যতাগত গুরুত্ব। এটি মুসলমানদের হৃদয়ে কাবা শরিফের বিশেষ মর্যাদার প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি ইসলাম ও মুসলমানদের সেবায় এবং দুই পবিত্র মসজিদের দেখভালে সৌদি নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারেরও প্রতিচ্ছবি। মুহাররম মাসের প্রথম দিনের ভোরে কাবা শরিফ নতুন কিসওয়ায় সজ্জিত হবে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে নতুন হিজরি বছর। প্রতি বছরের এই আয়োজন মসজিদুল হারামের প্রতি অব্যাহত যত্নের প্রতীক এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা ইসলামি ঐতিহ্যের এক অনন্য প্রকাশ।
আজ রাতেই নতুন গিলাফে সজ্জিত হবে পবিত্র কাবা
0
Share.