ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে যা জানা গেল

0

ডেস্ক রিপোর্ট: সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে পাওয়া প্রধান বিষয়গুলো হলো পারমাণবিক, নিষেধাজ্ঞা ও তদারকি এই তিনটি কারিগরি দল গঠনের সিদ্ধান্ত। তবে এগুলোর কার্যক্রম শুরু হবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর। একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমীকরণে একটি মোড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে, গতকাল সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক এস্টেটে অনুষ্ঠিত বহুপক্ষীয় আলোচনায় প্রাথমিক সমঝোতার শর্তাবলি বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ দাবিদাওয়ার অনুসরণে কার্যকর ব্যবস্থা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে যুদ্ধের অবসানসংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। লেবাননকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে সৃষ্ট সংবেদনশীল ও অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে, ইরানি প্রতিনিধি দল ‘মিনাব ১৬৮’-এর মিডিয়া কমিটির প্রকাশিত বিবৃতির পাঁচটি মূল বিষয় এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অর্জন ও ভবিষ্যৎ পথরেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ‘মিনাব ১৬৮’ আলোচক দলের মিডিয়া কমিটির মতে, রবিবারের বহুপক্ষীয় আলোচনার প্রধান বিষয়গুলো ছিল নিম্নরূপ: ১. শনিবার সন্ধ্যা থেকে ইরানি আলোচক দলের চাপ প্রয়োগের ফলে লেবাননে বর্তমানে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করতে ‘কনফ্লিক্ট কন্ট্রোল ইউনিট” নামে একটি তদারকি ব্যবস্থা গঠন করা হবে, যেখানে ইরানের অংশগ্রহণ থাকবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কার্যত ও আনুষ্ঠানিকভাবে লেবাননের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হয়ে উঠবে। গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের বিষয়ে ইরানকে বাইরে রাখার জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছিল। এই তদারকি ব্যবস্থায় ইসরায়েলি শাসনের কোনো ভূমিকা থাকবে না। ২. হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা এবং ধীরে ধীরে এর পুনরায় উন্মুক্তকরণের নিশ্চয়তা বিষয়ে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা (কন্ট্যাক্ট লাইন) স্থাপনে সম্মতি হয়েছে। এর মাধ্যমে বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা দেখা দিলে অপর পক্ষ সরাসরি ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে এবং সম্ভাব্য সমস্যাগুলো জানাতে পারবে। এই পদক্ষেপকে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌম কর্তৃত্বের আরও সুসংহত হওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৩. বিবৃতিতে উল্লেখিত পারমাণবিক, নিষেধাজ্ঞা ও তদারকি বিষয়ক তিনটি কর্মদল সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর ধারা বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর তাদের কাজ শুরু করবে। এর মধ্যে রয়েছে— • সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, বিশেষ করে লেবাননে; • নৌ অবরোধ প্রত্যাহার শুরু করা; • ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করা; • তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ছাড়পত্র (waiver) জারি করা। অর্থাৎ, ১৩ নম্বর ধারা বাস্তবায়নের আগে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় প্রবেশ করবে না। ৪. এই দফার আলোচনায় ইরান ও কাতারের মধ্যে ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তির বাস্তবায়নসংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে। ৫. সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনার সময়, সমঝোতা স্মারকের ১০ নম্বর ধারার ভিত্তিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য প্রত্যাহারের নথি জারি করেছে। এর অর্থ হলো, ইরান এখন আনুষ্ঠানিকভাবে তার ক্রেতাদের কাছে তেল বিক্রি করতে পারবে এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই অর্থ গ্রহণ করতে পারবে।

Share.