ডেস্ক রিপোর্ট: হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের একাধিক স্থানে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। রোববার (২৮ জুন) আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে পানামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ ইরানের সিরিক, বন্দর-ই-লেঙ্গেহ ও কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। দুই সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার ভোরে ইরান ওই ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালানোর পর পাল্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, হামলায় ইরানের সামরিক নজরদারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং মাইন স্থাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হলেও ইরান তা করেনি। তাই বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সতর্ক করে বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান আরও এগিয়ে নেবে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ ও তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের মানামায় অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, ইরানের উপকূলীয় পাঁচটি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বাহিনীটি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব তেহরানের হাতে রয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে অতীতের তুলনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে আইআরজিসি।
মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত-বাহরাইনে ইরানের পাল্টা হামলা
0
Share.