কেন ক্রোয়েশিয়ার শেষ মুহূর্তের গোল বাতিল হলো?

0

স্পোর্টস ডেস্ক: এবারের বিশ্বকাপে প্রায় প্রতি ম্যাচেই আলোচনায় আসছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) কাণ্ডকারখানা। সবশেষ পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার গোল নিয়ে ভিএআরের সিদ্ধান্ত আলোচনায় এসেছে। দ্বিতীয়ার্ধে ইনজুরি টাইমের ১৩তম মিনিটে ক্রোয়েশিয়া সমতাসূচক গোল করলেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ওই গোলটি বৈধ হলে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াতো। কিন্তু ভিএআরের রায় ক্রোটদের বিরুদ্ধে যাওয়ায় ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে শেষ ষোলোতে উঠেছে পর্তুগাল। ৯৪তম মিনিটে গনসালো রামোস পর্তুগালের স্কোর ২-১ করেন। মনে হচ্ছিল, ম্যাচ জিতে গেছে তারা। কিন্তু নাটকের তখনো বাকি ছিল। ১০৩ মিনিটে গোলমুখের সামনে তীব্র জটলার মধ্যে গোল করে ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নেওয়ার উল্লাসে মাতে তারা। কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ে গোল বাতিল হয়। অফসাইড কলে হৃদয় ভাঙে ক্রোয়েশিয়ার। ফুটবলে বল পাস করার মুহূর্তে আক্রমণকারী খেলোয়াড় যদি বল ও প্রতিপক্ষের শেষ দ্বিতীয় খেলোয়াড়ের (শেষ ডিফেন্ডার) চেয়ে প্রতিপক্ষের গোললাইনের বেশি কাছাকাছি থাকেন, তবে তিনি অফসাইড পজিশনে আছেন বলে ধরা হয়। ক্রোয়েশিয়া বনাম পর্তুগাল ম্যাচে অফসাইডের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ার কারণ বলটি গোলে শট নেওয়ার আগে এলোমেলোভাবে অনিচ্ছাকৃতভাবে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে স্পর্শ করেছিল। ক্রোয়েশিয়ার ইভান পেরিসিচ ডান প্রান্ত থেকে একটি দূরপাল্লার ক্রস দেন। সেটি খেলোয়াড়দের জটলার মধ্য দিয়ে গিয়ে পর্তুগাল ডিফেন্ডার রেনাতো ভেইগার মাথায় লেগে ড্রপ খায়। এরপর বলটি গোলপোস্টের কাছাকাছি থাকা ক্রোয়েশিয়ার মারিও পাসালিচের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে এবং সেখান থেকে ক্রোয়েশিয়ার জোসকো জিভার্দিওল বলটি জালে জড়ান। যদিও গোলটি প্রথম দেখায় একেবারে বৈধ মনে হয়েছিল। কিন্তু রিপ্লেতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ধরা পড়ে। কানেক্টেড বল টেকনোলজি ব্যবহার করে ভিএআর নিশ্চিত হয়—পাসালিচের কাছে বল পৌঁছানোর আগে ক্রোয়েশিয়ার স্ট্রাইকার ইগর মাতানোভিচ বলটিতে মাথা দিয়ে সামান্যতম স্পর্শ করেছিলেন, আর ঠিক সেই মুহূর্তে পাসালিচ অফসাইড পজিশনে ছিলেন। মাতানোভিচের মাথায় সামান্য লেগে পাসালিচের কাছে বল পৌঁছানোর আগে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ভেইগার মাথা ছোঁয়ার কারণে সংশয় আরও জোরালো হয়েছিল। কিন্তু পিচ সাইড মনিটরে বিষয়টি পর্যালোচনা করে রেফারি এস্পেন এসকাস সিদ্ধান্ত নেন, ভেইগার মাথায় বল স্পর্শ করলেও সেটি ইচ্ছাকৃত ছিল না। এর মানে মাতানোভিচের মাথায় যখন বলটি স্পর্শ করেছিল, তখন লাইনে থাকা খেলোয়াড়দের অনসাইডে থাকতে হতো। কিন্তু সেই মুহূর্তে পাসালিচ অফসাইড পজিশনে ছিলেন। যার ফলে ক্রোয়েশিয়ার গোলটি বাতিল হয়ে যায়। তাছাড়া পর্তুগিজ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বলটি আসার পর পাসালিচ অনসাইডে ফিরে এসে বলের দিকে দৌড়েছিলেন। রিপ্লেতে সেটি দেখার পর সাধারণ দর্শকদের কাছে পুরো কলটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর মনে হয়েছে।

Share.