মিসরের ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনকে উৎসর্গ

0

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে মিসর। এই গুরুত্বপূর্ণ জয়টি ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেছেন দলের কোচ হোসাম হাসান। ম্যাচ শেষে তার এই বক্তব্য এবং আবেগঘন বার্তা দ্রুতই আলোচনায় আসে। এর পর গাজা উপত্যকায়ও দেখা যায় উচ্ছ্বাস ও আনন্দের দৃশ্য। শুক্রবার (৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচে নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে মিসর ও অস্ট্রেলিয়ার খেলা ১-১ গোলে ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় আফ্রিকার দেশ মিসর, যা তাদের বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে প্রথম জয়। ম্যাচের শুরুতে ১৩তম মিনিটে ইমাম আশুরের হেডে এগিয়ে যায় মিসর। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতা ফেরায় অস্ট্রেলিয়া। নির্ধারিত সময়ের পর আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে মিসরের হয়ে জয়সূচক পেনাল্টি থেকে গোল করেন হোসাম আবদেলমাগুইদ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউটার ও লুকাস হেরিংটনের শট ব্যর্থ হলে জয় নিশ্চিত হয় মিসরের। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত কোচ হোসাম হাসান বলেন, “আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। এই জয় আমি মিসরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সম্মানিত মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।” জয়ের পর মাঠেই মিসর ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদযাপন করেন কোচ হাসান। খেলোয়াড়রাও সিজদায় নত হয়ে এই ঐতিহাসিক অর্জন উদযাপন করেন। তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। গাজার বহু বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনি সমর্থক মিসরের এই জয়ে নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করেন। গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ এক্সে লেখেন, “জীবনে প্রথমবার এত উত্তেজনা নিয়ে বিশ্বকাপ দেখছি। মিসরের জয় আমাকে খুব আনন্দ দিয়েছে। সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য ছিল ধ্বংসস্তূপ আর তাঁবুর মাঝেও মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখছে, হাসি-উল্লাস করছে।” সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপের পাশে অস্থায়ী পর্দায় খেলা উপভোগ করছেন শত শত মানুষ। অনেক শিশুর মুখে আঁকা ছিল মিসরের পতাকা। গোলের মুহূর্তে পুরো পরিবেশ উল্লাসে ভরে ওঠে। যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবল সেখানে কিছুক্ষণের জন্য আনন্দের সুযোগ এনে দেয়।

Share.