ডেস্ক রিপোর্ট: ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান কৌশলগত ভুল হলো আঞ্চলিক গতিশীলতায় ইরানের প্রকৃত অবস্থানকে স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হওয়া। ইরান আর কোনো প্রান্তিক খেলোয়াড় নয়; এটি পশ্চিম এশিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, যার নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাস্তব ও কার্যকর প্রভাব রয়েছে। এই প্রভাব এসেছে দেশীয় সক্ষমতা ও স্বাধীন নীতির মাধ্যমে—বাহ্যিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে নয়—এবং চাপ প্রয়োগ করে একে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। শুনবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সংস্থা মেহের-এ প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষনে এ মন্তব্য করা হয়েছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিকারের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা চায়, তবে তাকে এই বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে। গত কয়েক দশকের আঞ্চলিক সংকটগুলো দেখিয়েছে যে গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ থেকে ইরানকে বাদ দেওয়া না বাস্তবসম্মত, না নিরাপত্তার জন্য সহায়ক। আলোচনা তখনই অর্থবহ হতে পারে, যখন ইরানকে প্রভাবশালী পক্ষ হিসেবে নয়, বরং একটি সমমর্যাদার আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পারমাণবিক কূটনীতি তখনই সফল হতে পারে, যখন এর লক্ষ্য একটি নির্দিষ্ট বিরোধের সমাধান, অতিরিক্ত ছাড় আদায়ের হাতিয়ার হওয়া নয়। বিভিন্ন সময়ে ওয়াশিংটন আলোচনার পরিধি পারমাণবিক ইস্যুর বাইরে বাড়ানোর চেষ্টা করেছে এবং ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও আঞ্চলিক নীতিকে আলোচনায় টেনে এনেছে। তেহরানের দৃষ্টিতে, এটি কূটনীতির আড়ালে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ। ইরান বারবার বলেছে যে তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে স্বচ্ছতা দিতে তারা প্রস্তুত। তবে এই স্বচ্ছতা একতরফা হতে পারে না। বাস্তব ও কার্যকর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা এবং ইরানের পারমাণবিক অধিকারকে স্বীকৃতি—এসবই যেকোনো টেকসই চুক্তির মৌলিক পূর্বশর্ত। এসব উপাদান না থাকলে আলোচনা দীর্ঘ ও ফলহীন প্রক্রিয়ায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে আলোচনার ফলশ্রুতিতে সম্ভাব্য যে কোনো চুক্তির পথে আরেকটি বড় বাধা হলো যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী লবিং নেটওয়ার্কগুলোর প্রভাব—যাদের স্বার্থ প্রায়ই স্থায়ী উত্তেজনার সঙ্গে জড়িত। কূটনীতিকে ব্যর্থ করার তাদের প্রচেষ্টা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে এবং ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের ওপর বড় ধরনের খরচ চাপিয়েছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গভীর রাজনৈতিক বিভাজন অস্থির ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি নতুন প্রশাসন আগের প্রশাসনের নীতি উল্টে দিতে চায়, ফলে বিশ্বাসযোগ্যতা ও আস্থা ক্ষুণ্ন হয়। এই বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন ইরান তাই বাস্তবসম্মত ও কার্যকর নিশ্চয়তার ওপর জোর দিয়েছে। ইরানের অংশগ্রহণ ছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় টেকসই স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক ইতিহাস দেখায়, ইরানকে প্রান্তিক করার চেষ্টা সংকট আরও তীব্র করেছে, আর সংলাপ ও সম্পৃক্ততা সংকট ব্যবস্থাপনার পথ খুলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ইরানের অধিকার স্বীকার করা কোনো ছাড় নয়—এটি উত্তেজনা কমানোর একটি বাস্তব প্রয়োজন। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। যদি ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে নিজের কৌশলগত ও আর্থিক বোঝা কমাতে চায়, তবে তাকে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি ত্যাগ করে প্রকৃত কূটনীতিতে ফিরে আসতে হবে।
ইরান কোনো প্রান্তিক খেলোয়াড় নয়; পশ্চিম এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ শক্তি
0
Share.