তেল রপ্তানি বন্ধ হলেও ইরানের টিকে থাকার সক্ষমতা কতদিন?

0

ডেস্ক রিপোর্ট: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই জ্বালানি তেল রপ্তানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে ইরান। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরোপুরি রপ্তানি বন্ধ থাকলেও আগামী অন্তত দুই মাস স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখতে সক্ষম হবে দেশটি। গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের তেলের প্রধান বাজার চীন। দেশটিতে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে তেহরান। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এই বিশাল সরবরাহ এখন হুমকির মুখে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়, তবে বিশ্ববাজার দৈনিক প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেলের জোগান হারাবে। এমনটা ঘটলে জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে ইরানকে তাদের উৎপাদিত তেল সংরক্ষণাগার বা স্টোরেজ ট্যাংকে জমা রাখতে হবে। আর এই ধারণক্ষমতা ফুরিয়ে গেলেই দেশটিকে উৎপাদন কমিয়ে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এফজিই নেক্সট্যান্টইসিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের স্থলভাগে প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল তেল সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই সক্ষমতা প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল। বর্তমানে ইরান দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে। এই হিসাবে, রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও দেশটি প্রায় দুই মাস উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারবে। তবে দৈনিক ৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমিয়ে দিলে এই সময়সীমা তিন মাস পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। অবশ্য সব প্রতিষ্ঠানের হিসাব এক নয়। কাইরোস ও এনার্জি অ্যাসপেক্টসের মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, ইরানের তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা আরও কম-প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল। এই হিসাব সঠিক হলে মাত্র ১৬ দিনের মাথায় ইরানকে বিপাকে পড়তে হতে পারে। এনার্জি অ্যাসপেক্টসের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্রোঞ্জ মনে করেন, চলতি এপ্রিলে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব উৎপাদনে খুব একটা না পড়লেও, মে মাস পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চললে ইরানকে বড় ধরনের উৎপাদন হ্রাসের পথে হাঁটতে হবে। এ বিষয়ে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

Share.