বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীত মানেই প্রথমেই যার নাম আসে, তিনি আইয়ুব বাচ্চু। গিটারের ছোঁয়ায় সুরের জাদু ছড়িয়ে দেওয়া এই কিংবদন্তি আজও সমানভাবে বেঁচে আছেন ভক্তদের হৃদয়ে। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া এ রকস্টার চলে গেছেন বহু দূরে, তবু রেখে গেছেন অগণিত গান, অশেষ ভালোবাসা। আজ তার জন্মদিন যদি বেঁচে থাকতেন, ৬৩ বছরে পা রাখতেন বাংলাদেশের ব্যান্ডসংগীতের এই মহাতারকা।হাজারো ভক্ত-শ্রোতা আজ নানা আয়োজনে স্মরণ করছেন কিংবদন্তি ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে। তিনি আর নেই, তবু তার রেখে যাওয়া গান, সুর আর রুপালি গিটার আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। শুধু ব্যান্ডসংগীতে নয়, একাধারে গায়ক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবেও তিনি ছিলেন সমান দক্ষ। আধুনিক গান থেকে লোকগীতি কিংবা চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক—বাংলা সংগীতের প্রতিটি ধারাতেই অমলিন ছাপ রেখে গেছেন তিনি।তারকা খ্যাতির শীর্ষে থেকেও আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন সাধারণের নাগালের মধ্যে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি চেয়েছিলেন একজন ‘ভালো মানুষ’ হয়ে বেঁচে থাকতে। তাই তার মৃত্যুর পর শুধু সংগীতাঙ্গন নয়, কেঁদেছিল পুরো জাতি। অনুরাগীদের কাছে তিনি শুধু একজন সংগীতশিল্পী নন, ছিলেন এক জাদুকর, যিনি গিটারের তারে এঁকে দিতেন জীবনের গল্প।আইয়ুব বাচ্চু ‘এলআরবি’ ব্যান্ড দল প্রতিষ্ঠা করে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। তার কণ্ঠে গাওয়া ‘ফেরারি মন’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘এখন অনেক রাত’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘রুপালি গিটার’, ‘আমি বারো মাস তোমায় ভালোবাসি’— এসব গান যেন ‘চিরসবুজ’ হিসেবে পরিণত হয়েছে, যা চলছে কয়েক প্রজন্ম ধরেই। তার হাত ধরেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যান্ডসংগীত এক নতুনমাত্রা পেয়েছিল, যা বাংলাদেশে ব্যান্ডসংগীতকে জনপ্রিয় ও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে এক অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। ব্যান্ডসংগীতের পাশাপাশি একক ক্যারিয়ারেও আইয়ুব বাচ্চু পেয়েছিলেন আকাশছোঁয়া সাফল্য। তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’ ও দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ময়না’ দিয়ে শুরু হয় সেই যাত্রা। এরপর এলআরবি ১৯৯২ সালে প্রকাশ করে দেশের প্রথম ডাবল অ্যালবাম ‘এলআরবি ১’ এবং ‘এলআরবি ২’। আর ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত ‘সুখ’ অ্যালবাম হয়ে ওঠে সর্বকালের অন্যতম সফল অ্যালবাম।
আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন আজ
0
Share.