স্পোর্টস ডেস্ক: সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে ‘বিশেষ’ বলে মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা জানিয়েছেন, জাতীয় দলের জার্সিতে এবারই প্রথম ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তিনি। শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ এবং ইংল্যান্ড একইভাবে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করে। আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেমিফাইনাল।ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, “১৯৮৬ সালের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ সম্পর্কে আমি যা দেখেছি বা মনে রেখেছি, সবই ভিডিও ও ছবির মাধ্যমে। আর্জেন্টিনার মানুষ এখনও সেই মুহূর্তগুলো বারবার দেখে এবং মনে করে।” তিনি আরও বলেন, “তবে আমার মনে হয়, আমাদের এই দল প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, নিজেদের খেলাটা খেলতে অভ্যস্ত। অবশ্যই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বিশেষ, কারণ তারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি। আর এমন দলের বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই আলাদা অনুভূতির।”নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার প্রসঙ্গে মেসি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে এটাই প্রথমবার আমি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলব। প্রায় সব বড় দলের বিপক্ষেই খেলেছি, শুধু ইংল্যান্ড বাদ ছিল। তাই এই কারণেও ম্যাচটি আমার জন্য বিশেষ। এটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, প্রতিপক্ষ একটি শক্তিশালী দল। আমরা সেরা প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামতে চাই।”আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং একক নৈপুণ্যে করা আরেকটি গোল আজও ফুটবল ইতিহাসের অংশ। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ডও দুই দলের লড়াইকে আরও আলোচিত করে তোলে। আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ বলেন, “মাঠের বাইরের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অনেক ইতিহাস, আবেগ ও স্মৃতিতে ভরা একটি ম্যাচ। তবে আমরা পেশাদার ফুটবলার। আগের ম্যাচগুলোর মতোই শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। এটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। ছোটবেলা থেকে আমরা সবাই এমন ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখেছি। এর চেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আর কী হতে পারে?”সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত গোল করা হুলিয়ান আলভারেজও ইংল্যান্ডকে সমীহ করছেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের সেরা চার দলের একটি হতে পেরে আমরা গর্বিত। ইংল্যান্ডের দলে অসাধারণ সব খেলোয়াড় আছে। তারা এই বিশ্বকাপে খুব ভালো খেলছে। এখন আমাদের বিশ্রাম নিয়ে ম্যাচটির জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হবে।” এই সেমিফাইনালের বিজয়ী আগামী রোববারের ফাইনালে স্পেন অথবা ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বিশেষ, তারা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি: লিওনেল মেসি
0
Share.