ইরানে নতুন করে আগ্রাসন হলে জবাব হবে ভয়াবহ: আইআরজিসি

0

ডেস্ক রিপোর্ট: ইরানের “প্রতিরোধ, আত্মত্যাগ ও বিজয়ের জাতীয় দিবস” উপলক্ষে এক বিস্তৃত কৌশলগত বার্তা দিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার মেজর জেনারেল আহমদ ভাহিদি। দিবসটি দেশটির শহর খোররামশাহর মুক্তির বার্ষিকী হিসেবে পালিত হয়। বার্তায় তিনি ইরানের সামরিক অবস্থান তুলে ধরে তথাকথিত চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের ফলাফল মূল্যায়ন করেন এবং সতর্ক করে বলেন, নতুন কোনো আগ্রাসন হলে তার জবাব হবে ভয়াবহ, যা আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে যাবে। ভাহিদি তার বক্তব্যের শুরুতে ১৯৮২ সালে ৫৭৮ দিনের দখলদারিত্বের পর খোররামশাহর মুক্ত হওয়ার ঘটনা স্মরণ করেন এবং এটিকে ইরানি প্রতিরোধ ও বিজয়ের স্থায়ী প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি সেই যুদ্ধের সঙ্গে “চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ”-এর সরাসরি তুলনা টেনে বলেন, ৪০ দিনের প্রতিরোধ যুদ্ধের পর ইরান আবারও মাথা উঁচু করে বেরিয়ে এসেছে এবং শত্রুকে অপমানজনকভাবে যুদ্ধবিরতি চাইতে বাধ্য করেছে। এরপর আইআরজিসি কমান্ডার পাঁচটি কৌশলগত সমাপ্তি তুলে ধরেন: প্রথমত: “তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ” ছিল একটি হাইব্রিড সংঘাত। তবে জনগণের “মহাকাব্যিক উপস্থিতির” সমর্থনে আইআরজিসির “নির্ণায়ক ও শিক্ষণীয়” জবাব শত্রুর সব লক্ষ্য ব্যর্থ করে দিয়েছে এবং তাদের ষড়যন্ত্র নিষ্ক্রিয় করেছে। দ্বিতীয়ত: খোররামশাহরের শিক্ষা হলো অভ্যন্তরীণ শক্তির ওপর নির্ভরতা এবং সক্রিয় প্রতিরোধক্ষমতা। ইরানের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতার অগ্রগতি “বিপ্লব ও ইসলামি মাতৃভূমির শত্রুদের” নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য করেছে। তৃতীয়ত: দেশের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সম্পদ হলো জনগণের দৃঢ় ও আবেগপূর্ণ উপস্থিতি, যা শত্রুর অনুপ্রবেশ ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এক অপ্রবেশযোগ্য দেয়াল হিসেবে কাজ করে। চতুর্থত: ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান, নৌ, স্থল, মহাকাশ ও সাইবার—সব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সক্রিয় প্রতিরোধক্ষমতায় রয়েছে। তাই শত্রুর যেকোনো নতুন আগ্রাসনের জবাব হবে “ধ্বংসাত্মক ও নরকসম”, যা আঞ্চলিক ও আঞ্চলিক সীমার বাইরেও বিস্তৃত হবে। পঞ্চমত: খোররামশাহর মুক্তি ভবিষ্যতের বিজয়ের একটি স্থায়ী মডেল—যার মধ্যে রয়েছে “পবিত্র কুদস” মুক্ত করা এবং “প্রতিরোধ অক্ষ” ও ইসলামি বিশ্বের মুজাহিদদের মাধ্যমে ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার অবসান।

Share.