রবিবার, অক্টোবর ১৮

কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহত বেড়ে- ১৯, গ্রেপ্তার- ১২

0

ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার মানিকতলা এলাকার চোরবাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত অন্তত ২৫ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রশাসনের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এ পর্যন্ত মোট ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, গত শনিবার রাত নয়টার দিকে হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে মণ্ডপে আশ্রয়ের জন্য এবং প্রতিমা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক হুড়োহুড়ি বেধে যায়। দর্শনার্থীদের প্রচণ্ড চাপের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই চোরবাগান সর্বজনীন পূজামণ্ডপসহ কলকাতার টালা প্রত্যয়, আলিপুর সর্বজনীন ও চেতলা সম্মিলনী—এই চারটি জনপ্রিয় পূজামণ্ডপের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত বা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যাপ্ত ট্রমা কেয়ার সেন্টার না থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও টেলিভিশন ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা ঘোষণা এই প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে নিহতদের পরিবারপ্রতি ২৫ লাখ এবং আহতদের পরিবারপ্রতি ৫ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের অন্তত একজনের সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, আহতরা নিজেদের পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবে রাজ্য সরকার। গাফিলতির প্রমাণ মিললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া পুরো ঘটনার বিচারিক তদন্তের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আবেদন জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Share.