কোভ্যাক্সের টিকার ঘাটতির বিষয়ে ডব্লিউএইচও’র সতর্কতা

0

ডেস্ক রিপোর্ট: জুন-জুলাই মাসে কোভ্যাক্স কর্মসূচির টিকার ঘাটতির কারণে টিকাদান কর্মসূচি বিঘ্নিত হতে পারে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিশ্বে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে, টিকার ন্যায্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে কোভ্যাক্স গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে কোভ্যাক্স ১২৯ টি দেশে আট কোটির বেশি ডোজ টিকা সরবরাহ করেছে।কোভ্যাক্সে ডব্লিউএইচও’র কর্মকর্তা ব্রুস আইলওয়ার্ড জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যে অবস্থানে থাকতে চেয়েছিলাম, তার চেয়ে আরও ২০ কোটি ডোজের ঘাটতি আছে।’ব্রুস আইলওয়ার্ড আরও বলেন, উন্নত দেশগুলো এ পর্যন্ত ১৫ কোটি ডোজ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। তবে এতে সংকট কাটবে না।এ ছাড়া আইলওয়ার্ড বলেন, ‘আমরা ডোজগুলো তাড়াতাড়ি না পেলে টিকা দেওয়ার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হব। কারণ, আমরা এখনও যথাযথ অবস্থায় নেই। আমাদের হাতে যথেষ্ট ডোজ নেই।’ব্রুস আইলওয়ার্ড দুটি সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘প্রথমত, জুন-জুলাই মাসে টিকা দেওয়ার জন্য খুব কম (দেশের পক্ষ থেকে) অঙ্গীকার করা হয়েছে। এর ফলে আমাদের ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে।’‘দ্বিতীয়ত, আমরা যদি বিশ্ব জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশকে চলতি বছর টিকা দিতে চাই, তাহলে এখন থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আরও ২৫ কোটি লোককে টিকার আওতায় আনতে হবে’, যোগ করেন ব্রুস আইলওয়ার্ড।গ্যাভি এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন্স-এর সহায়তায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে পরিচালিত কোভ্যাক্স যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে টিকার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।কোভ্যাক্সে ৯৭ শতাংশ টিকা সরবরাহ করছে অ্যাস্ট্রাজেনকা। বাকিটা করছে ফাইজার বায়োএনটেক।অ্যাস্ট্রানেকা ডোজের উৎপাদনকারী ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট কোভ্যাক্সের মূল সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছিল। কিন্তু, অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে নয়াদিল্লি টিকা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে কোভ্যাক্স সংকটে পড়ে।তবে সেরাম বলছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তারা কোভ্যাক্সে সরবরাহ শুরু করতে পারবে বলে আশা করছে।বিশ্বে গত বৃহস্পতিবার পযন্ত দুইশ কোটি ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে, যাকে মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু, এই টিকার ৩৭ শতাংশ দেওয়া হয়েছে উন্নত দেশগুলোতে, যেখানে বিশ্ব জনসংখ্যার ১৬ শতাংশের বসবাস।

Share.