স্পোর্টস ডেস্ক: সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে করা দুর্দান্ত গোলে আর্জেন্টিনাকে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলেছেন হুলিয়ান আলভারেজ। ম্যাচ শেষে এই ফরোয়ার্ড বলেছেন, বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি ছিল তার জন্য ‘স্বস্তির নিঃশ্বাস’। শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে নির্ধারিত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের ১১২তম মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন আলভারেজ। এটিই চলতি বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল। পরে লাউতারো মার্টিনেজ আরও একটি গোল করলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে আলভারেজ বলেন, “এটি ছিল আবেগের এক বিশাল মুক্তি। আমরা খুবই আনন্দিত। একজন বেশি খেলোয়াড় নিয়ে খেললেও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছি। আমরা জানতাম গোলটি আসবেই। আমরা ভীষণ খুশি।” তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা জিতেছি। একজন ফরোয়ার্ড হিসেবে অবশ্যই গোল করতে চাই, তবে একই সঙ্গে রক্ষণে সাহায্য করা, দৌড়ানো এবং দলের জন্য কাজ করাও গুরুত্বপূর্ণ। দল জিতলে আমরা সবাই খুশি। এই বিশ্বকাপে আমি ধীরে ধীরে নিজের সেরা ছন্দে ফিরছি। আশা করি টুর্নামেন্টের শেষ অংশে আরও ভালো খেলতে পারব।” এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় জয়। এর আগে শেষ ষোলোতে কেপ ভার্দেকে একইভাবে হারিয়েছিল লিওনেল স্কালোনির দল। এই ম্যাচের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়েছে আর্জেন্টিনা। দলটি এখন পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে খেলেছে, যা জার্মানির ১২ ম্যাচের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। আলভারেজ বলেন, “আমরা দেখছি এই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। শুধু আমাদের জন্য নয়, প্রতিপক্ষের জন্যও একই অবস্থা। অনেক ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে যাচ্ছে। তবে আমরা জানি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আমরা সবকিছু উজাড় করে দিচ্ছি এবং শেষ মুহূর্তে গোলও পাচ্ছি। তাই জিততে পারলেই সবকিছু ইতিবাচক মনে হয়।” সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অন্য দুটি গোল করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লাউতারো মার্টিনেজ। এ ম্যাচে গোল করতে না পারলেও একটি অ্যাসিস্ট করেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায়। ইংল্যান্ডকে নিয়ে আলভারেজ বলেন, “বিশ্বের সেরা চার দলের একটি হিসেবে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। ইংল্যান্ডের দলে অসাধারণ সব খেলোয়াড় আছে। তারা এই বিশ্বকাপে দারুণ খেলছে। এখন আমাদের বিশ্রাম নিয়ে ম্যাচটির জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।” এদিকে ম্যাচের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সেমিফাইনাল নিয়ে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো বলেছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা আমাদের সর্বস্ব উজাড় করে দেব। আবার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে আমরা মাঠে নিজেদের জীবন বাজি রাখব।”
‘গোলটি ছিল স্বস্তির নিঃশ্বাস’
0
Share.