জানা গেল কবে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

0

ঢাকা অফিস: ইউপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। অক্টোবর থেকে পিছিয়ে এখন নভেম্বরে এ নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগের মতোই ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভোটের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তুলনামূলক সহায়ক সময়। তবে দুর্গাপূজা, রমজান, পাবলিক পরীক্ষা ও বার্ষিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। আগে অক্টোবর ধরে পরিকল্পনা করা হলেও এখন নভেম্বরে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটের ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করা হবে। সূত্র: কালের কণ্ঠ। ইউপি দিয়ে নির্বাচন শুরু হবে জানিয়ে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, এর সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনও হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল, সেটি ফেরত এসেছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আইন সংস্কারের বিষয়ে ইসির সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি। বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা ধরেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। এর আগে গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে নির্বাচন উপযোগী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য চেয়েছিল ইসি। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ইউপি ও পৌরসভার তালিকা কমিশনে পৌঁছেছে। এদিকে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। গতকাল ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আগামী সপ্তাহে ইসির সঙ্গে বৈঠক করা হবে। নির্বাচনের তপশিল ও ভোটের তারিখ ইসিই নির্ধারণ করবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে ইসি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আইজিপি, বিজিবির মহাপরিচালক এবং আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সিইসি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা বেশি। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার প্রস্তুতি প্রয়োজন। আবহাওয়া, বন্যা, পূজা, পাবলিক পরীক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র ও শিক্ষকরা ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সেটি বিবেচনায় নিয়ে ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, আইন ও বিধি ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। ভোটের ২৫ দিন আগে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করা হবে। ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৪ হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৬টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা ও তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।

Share.