ঝাড়খণ্ডে বিজেপি’র পতনের কারণ জনগণের দুর্ভোগ: হেমন্ত শোরেন

0

ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের অধীনে ব্যাপক দুর্ভোগের শিকার হয়ে জনগণ ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ও কংগ্রেস জোটকে নির্বাচিত করেছে বলে মনে করেন জোটটির নেতা হেমন্ত শোরেন। সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিজেপি’র প্রণয়ন করা আইনের কারণে মানুষ মারা যাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) করার সিদ্ধান্তের কারণে কেবল মুসলমানরা নয় সাধারণ ভারতীয়রাও আক্রান্ত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডের ৮১ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতে দরকার পড়ে ৪১ আসন। ঘোষিত ফলাফলে রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি পেয়েছে ২৫টি আসন। আর ৪৬ আসন পেয়ে জয় নিশ্চিত করেছে জেএমএম-কংগ্রেস জোট। জোটটির নেতা হিসেবে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন হেমন্ত শোরেন। সোমবার এনডিটিভিকে জেএমএম নেতা শোরেন বলেন, ‘মানুষ মারা যাচ্ছে। নোটবন্দিকরণের (মুদ্রার নির্দিষ্ট নোট বাতিল) সময় লাইনে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ মারা গেছে। আপনাদের (বিজেপি’র) আইনের কারণে মানুষ মারা গেলে, দায় নেওয়া লাগবে’। বিজেপি সরকারের জাতীয় নাগরিক তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এটা কেবল মুসলমানের সমস্যা নয়। নিজেদের ভারতীয় প্রমাণ করতে বেসামরিক মানুষদের লাইনে দাঁড়াতে হবে। বহু কৃষক আছে, তারা জীবিকা উপার্জন করবে নাকি লাইন দাঁড়াবে’? ৪৪ বছর বয়সী হেমন্ত শোরেন ২০১৩-১৪ সালে রাজ্যটির পঞ্চম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রায় ১৭ মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজ্যভিত্তিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা শিবু শোরেনের ছেলে হেমন্ত শোরেন। অর্জুন মুন্ডার নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। তবে সেই মেয়াদ বিজেপি থেকে জেএমএম সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর  রাষ্ট্রপতির শাসন জারির মাধ্যমে শেষ হয়। ঝাড়খণ্ডে এবারের নির্বাচনি প্রচারণায় উত্তরাধিকার রাজনীতি নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে বিজেপি। সে প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনডিটিভিকে হেমন্ত শোরেন বলেন, ‘এটা খুবই কষ্টদায়ক, মনে হয় যেন কেউ আপনার বাবা মাকে আক্রমনণ করছে’। তিনি বলেন, ‘সিংহের বাচ্চা তো সিংহই হবে, না? মুচির ছেলে যদি মুচি হয় তাহলে তো কারও সমস্যা হয় না’। আগামী দিনে রাজ্যের জন্য তার পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে হেমন্ত শোরেন বলেন, ‘প্রথমে এটা করবো, ওটা করবো বলাটা ঠিক না। এতে জনগণকে বোকা বানানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনাকে দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতে হবে। আমরা ঝাড়খণ্ডের সব চ্যালেঞ্জ সমাধান করবো, সেটা জঙ্গলের হোক বা গ্রাম ও শহরের হোক’। সোমবার ফলাফল ঘোষণার পর পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট বার্তায় অনেক দিন ধরে বিজেপিকে সেবা করার সুযোগ দেওয়ায় ঝাড়খণ্ডের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আগামী দিনে জনগণের ইস্যুগুলো তুলে ধরা অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

Share.