ট্রাম্পের বিয়ে এড়ানোর এক অভিনব অজুহাত ‘যুদ্ধ’

0

ডেস্ক রিপোর্ট: ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ শুধু ভূরাজনীতি নয়—এটা তার ছেলের বিয়েতে না যাওয়ারও দারুণ উপায়। বাহামাসে অনুষ্ঠিত ডন জুনিয়রের সাম্প্রতিক বিয়েতে অনুপস্থিত থেকে তিনি দেখিয়ে দিলেন, ‘ইরান যুদ্ধ কেবল আন্তর্জাতিক উত্তেজনা নয়, ব্যক্তিগত সামাজিক দায় এড়ানোরও কার্যকর ঢাল হতে পারে। মার্কিন প্রশাসন একের পর এক দাবি করছে যে ইরান চুক্তি ‘খুব কাছাকাছি’, ‘টেবিলে শক্ত প্রস্তাব আছে’, কিংবা ‘চূড়ান্ত ভাষা নিয়ে আলোচনা চলছে’। অথচ বাস্তবে পরিস্থিতি রয়ে গেছে অচলাবস্থায়। ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন পুঁতছে, হিজবুল্লাহকে সমর্থন দিচ্ছে, আর দুই পক্ষই রহস্যময় কূটনৈতিক ভাষায় সময় পার করছে। এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতাই যেন ট্রাম্পের জন্য আশীর্বাদ। কারণ এটি তাকে এমন সব অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সুযোগ দেয়, যেখানে তাকে কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও সময় কাটাতে হতো। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমার একটা বিষয় আছে—ইরান। আমি গেলে আমাকে মেরে ফেলবে, না গেলেও মেরে ফেলবে।’ সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘চলমান সংকট’ আসলে এক ধরনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ফাঁকিবাজির কৌশল। যুদ্ধ চলতে থাকলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও হাজির না হওয়ার অজুহাত সবসময় হাতের কাছে থাকে। এদিকে ডন জুনিয়রের নতুন স্ত্রী সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্যও ছিল অদ্ভুত রকমের, ‘সে খুব… একজন মানুষ, যাকে আমি অনেকদিন ধরে চিনি। আশা করি তাদের বিয়ে ভালো যাবে।’ এই শুষ্ক প্রতিক্রিয়া অনেকের কাছেই ইঙ্গিত দেয়—ট্রাম্প পরিবারের জন্য সম্পর্ক, বিয়ে, এমনকি আন্তর্জাতিক সংঘাতও প্রায়ই ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধার হিসাবের অংশ হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে, ইরান সংকট যেন ট্রাম্পের কাছে এক ‘চিরস্থায়ী অজুহাত’—যা তাকে রাজনৈতিক নাটকীয়তা বজায় রাখতে, সমালোচনা এড়াতে এবং পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে সাহায্য করে।

Share.