তিন দেশে একযোগে মারাত্মক আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালালো ইরান

0

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ইরানের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘আরাশ’ আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর জ্বালানি সংরক্ষণাগার, বড় সরঞ্জাম গুদাম, সিলো ও সেনা ব্যারাক লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আরও দাবি করেছে, বাহরাইনে অ্যামাজনের মালিকানাধীন একটি ডেটা সেন্টারেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ দাবি নিয়ে এখনো অ্যামাজন বা বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বাহরাইনে অবস্থানরত এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ২৪ জুলাই সকালে দেশটিতে বিস্ফোরণের শব্দ এবং সতর্কতামূলক সাইরেন শোনা গেছে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে ইরানের দাবিকৃত হামলার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো সামরিক স্থাপনা বা সেনাদের ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। তবে পরে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা ‘বেশ কয়েকটি ইরানি আকাশ হামলা’ প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করার অভিযোগ তুলেছে। ইরানের সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে । সূত্র: দ্য স্ট্রেইট টাইমস। সেখানে বিমান হ্যাঙ্গার, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও সেনা ব্যারাককে লক্ষ্য করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে জর্ডান গত কয়েক ঘণ্টায় কোনো হামলার খবর জানায়নি। কুয়েতের ক্ষেত্রেও ইরান একাধিক মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। দেশটির সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, ক্যাম্প উদাইরির সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার এবং ক্যাম্প দোহা ও ক্যাম্প আরিফজানে থাকা মার্কিন সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে একটি গোলাবারুদ গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে এবং মার্কিন সেনাদের হতাহত করা হয়েছে। এছাড়া বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ারেও হামলার দাবি করেছে তারা। তেহরানের বক্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব ঘাঁটি বা স্থাপনা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়, সেগুলো প্রতিশোধমূলক হামলার বৈধ লক্ষ্য। তবে ইরানের এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Share.