নতুন শান্তি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে যেসব শর্ত দিয়েছে ইরান

0

ডেস্ক রিপোর্ট: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক কঠোর শর্তও দিয়েছে তেহরান, যা নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শর্ত প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। ইরানের প্রধান শর্তগুলো কী? নতুন প্রস্তাবে ইরান বলেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে— লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে ইরান ঘিরে থাকা অঞ্চলগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সব সেনা প্রত্যাহার করতে হবে যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ ছাড় করতে হবে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে বিশ্লেষকদের মতে, এই শর্তগুলো বাস্তবায়ন করা ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত জটিল ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। ইরানের আগের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে “আবর্জনা” বলে মন্তব্য করেছিলেন বলে জানা গেছে। সেই তুলনায় নতুন প্রস্তাবে বড় কোনো পরিবর্তন নেই বলেও উল্লেখ করেছে রয়টার্স। ট্রাম্পের দাবি ও নতুন উত্তেজনা এদিকে সোমবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা ছিল, যা সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে নতুন একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তবে ইরানের কঠোর শর্ত ঘোষণার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কতটা কমবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে? বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন এমন এক পর্যায়ে রয়েছে যেখানে একদিকে আলোচনা চললেও অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনার ঝুঁকিও পুরোপুরি বিদ্যমান। ফলে আগামী দিনগুলো মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

Share.