বাংলাদেশ থেকে নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল মোহনগঞ্জ পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের এক লাইনম্যানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে। এছাড়াও টাকা নিয়ে মিটার পরিবর্তন, সংযোগের সেকশন বদল ও এক খুঁটি থেকে অন্য খুঁটিতে সংযোগ স্থানান্তরসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গ্ৰাহকদের অভিযোগ, আইনকে উপেক্ষা করে এসব কাজ করে দেওয়ার কথা বলে তিনি বিভিন্ন সময় বিদ্যুতের গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায়ই টাকা নিয়েছেন। তবে টাকা নেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে কাজ করে দেননি, এমনকি অর্থ ফেরতও দেননি। অভিযুক্ত লাইনম্যানের নাম দীপক চন্দ্র দাস। তিনি মোহনগঞ্জ পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের কর্মরত রয়েছেন। অতিষ্ঠ হয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ পল্লিবিদ্যুদায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন পৌর শহরের কাজিয়াটি এলাকার বাসিন্দা রতন মিয়া। গত ১৯ আগস্ট তিনি লিখিত এক অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ ,গত ৩ জুন ঝড়ে রতন মিয়ার বসতঘরের বৈদ্যুতিক মিটারটি নষ্ট হয়ে যায়। পরদিন তিনি মোহনগঞ্জ পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসে গেলে লাইনম্যান দীপক চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার দেখা। বিষয়টি জানার পর দীপক তাকে পাশের একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে রতনের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা নেন এবং দ্রুত নতুন মিটার দেওয়ার কথা বলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্ৰাহক জানান, তাদের ও এক অবস্থা। টাকা নিয়ে বেশ কিছুদিন পার হলেও মিটার লাগানো হয়নি। তাগাদা দিয়েও সাড়া না পেয়ে তিনি জোনাল অফিসে গিয়ে দীপককে খুঁজতে থাকেন। সেখানে গিয়ে আরও কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে তার কথা হয়। তাদের কাছ থেকেও একইভাবে মিটার দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ জানতে পারেন তিনি। রতন আর ও জানান, অফিস থেকে জানতে পারেন তিনি ঝড়ে্ তুফানে ক্ষতিগ্রস্ত মিটার পরিবর্তনের জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে এ ধরনের টাকা নেওয়ার কোন নিয়ম নেই।বিষয়টি তিনি জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. এমদাদুল হককে জানান। এরপর পরদিনই তার বাড়িতে নতুন মিটার লাগিয়ে দেওয়া হয়। দীপক রতনের কাছ থেকে নেওয়া ২ হাজার টাকা এখনো ফেরত দেননি। রতন মিয়া বলেন, পল্লী বিদ্যুতের অফিস কেন এমন করবে।সবাই জানে আমি কত গরীব মানুষ, ঋণ করে এনে ২ হাজার টাকাটা দিয়েছি। অনেকবার চেয়েও টাকাটা ফেরত পাচ্ছি না। তাই প্রতিকার চেয়ে আরইবির চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করেছি। মোহনগঞ্জ পৌরশহরের বার্ত্তারগাতীরঞ মাহবুব মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বলেন, গত জুনে ঝড়ে তাদের পাঁচটি মিটার নষ্ট হয়। এরপর লাইনম্যান দীপক প্রতিটি মিটারের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট সাড়ে ৭ হাজার টাকা নেন। কিন্তু পরে মিটার লাগিয়ে দেননি। অফিসে যোগাযোগ করার পর মিটার লাগানো হলেও দীপক নেওয়া টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করে বলে উনার অভিযোগ। বাহাম গ্ৰামের উজ্জ্বল মিয়া বলেন, অনেকেই অনেক কিছু নিরবে মেনে নেয়।অনিয়ম আমার সাথে ও করা হয়েছে।লোড ঠিকমতো না পাওয়ায় দীপক সেকশন পরিবর্তন করে অন্য খুঁটি থেকে সংযোগ দেন। এ কাজের জন্য তাকে ১২- ১৪ হাজার টাকা দিয়েছি।গ্ৰাহকদের নিকট থেকে এরকম টাকা ওরা কিভাবে নেয় এ নিয়ে প্রশ্ন? এ সম্পর্কে জানতে চাইলে লাইনম্যান দীপক চন্দ্র দাস বলেন, রতনের অভিযোগ মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে বৈঠকে বসা হচ্ছে। আর বাকি কোনো বিষয়ে আমি কথা বলব না। এসব বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা বলবেন।আমার কথা বলার কোন নিয়ম নেই। অপরদিকে মোহনগঞ্জ পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. এমদাদুল হক বলেন, অভিযোগের বিষয়টি জানা নেই। আমার কাছে কোনো গ্রাহক সমস্যা নিয়ে আসলে দ্রুত সেবা দেওয়া জন্য চেষ্টা করি। অভিযোগের বিষয়গুলো খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। নেত্রকোনা পল্লিবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আকরাম হোসেন বলেন, আরইবি থেকে গত পরশু এ সংক্রান্ত অভিযোগের একটি চিঠি এসেছে। দ্রুত এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের লাইনম্যান প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
0
Share.