বন্যার চোখে অশ্রুবন্যা

0

স্পোর্টস ডেস্ক: চলমান এসএ গেমসে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম রৌপ্যপদক জিতেছেন বাংলাদেশ আনসারের মোস্তফা কামাল। সোমবার ছেলেদের কারাতে ডিসিপ্লিনের ব্যক্তিগত কুমিতে অনূর্ধ-৫৫ কেজি ওজন শ্রেণীতে রুপা জেতেন তিনি। সোনা জেতেন নেপালের বিজয়। সেমিফাইনালে ৪-১ ব্যবধানে জেতেন মোস্তফা। ফাইনালে প্রবল লড়াই করেও বিজয়ের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যান মোস্তফা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সোনা জিততে পারলে ভালো লাগতো। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। স্বাগতিক হিসেবে নেপাল সুবিধা পেয়েছে।” এদিকে ব্যক্তিগত কুমির অ-৮৪ কেজিতে বাংলাদেশের মোহাম্মদ রমজান ব্রোঞ্জ জেতেন। আর ব্যক্তিগত কুমির অ-৮৮ কেজিতে ব্রোঞ্জ জেতেন আতিকুর রহমান। সময় গণনার মেশিনে ১০ সেকেন্ড রীতিমতো গায়েব করে দিয়েছেন টাইম কাউন্টাররা! ১৩ সেকেন্ড থেকে হঠাৎ করে ১০ সেকেন্ড ‘নাই’ করে দেয় আয়োজকরা। নেপালের প্রতিযোগি কুসুম খাদকাকে জেতানোর জন্য চরম পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করে আয়োজকরা। ফলে স্বর্ণজয়ের অনেক কাছাকাছি গিয়েও তা অর্জন করতে পারেননি বাংলাদেশের কারাতেকা মাউঞ্জেরা বন্যা। গতকাল কাঠমান্ডুর সাদদোবাদোর সুইমিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এসএ গেমস কারাতে নারী একক কুমিতে অনুর্ধ-৫৫ কেজিতে রুপা জেতার পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বন্যা। দুর্দান্ত লড়াই করে নেপালের খাদকাকের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যান। কারাতেতে সোমবার মোট ৯টি ইভেন্টে খেলা বাংলাদেশ জিতেছে ২টি রৌপ্য ও ৭টি ব্রোঞ্জ। হারটা কিছুতেই মানতে পারেননি বন্যা। খেলা শেষ হওয়ার পর কেঁদে বুক ভাসান তিনি। তাকে স্বান্তনা দিতে জন্য ছুটে আসেন ২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে কারাতেতে এই ইভেন্টে স্বর্ণজয়ী বিপাশা। কান্নাজড়িত কন্ঠে বন্যা বলেন, “প্রত্যাশা ছিল স্বর্ণজয়ের। খুবই ভাল খেলছিলাম। বাকিটুকু তো আপনারা দেখেছেন কী হয়েছে। আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে হারানো হয়েছে। তবে পরেরবার আমি ঠিকই স্বর্ণ জিতবো।” এছাড়া মেয়েদের দলগত কাতায় ব্রোঞ্জপদক জেতেন বাংলাদেশের নুমি মারমা, উলামে মারমা ও কারিমা খাতুন। সাত মাইক্রো পয়েন্টে চতুর্থ হয়ে তামা জেতেন তারা। স্বর্ণজয়ের প্রত্যাশা নিয়ে ম্যাটে নেমে ব্রোঞ্জ জেতায় অনেক কষ্ট পান বাংলাদেশের মেয়েরা। ম্যাচ শেষে আকুল কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। কর্মকর্তারাও তাদের কষ্ট লুকাতে পারেননি। কারাতে ফেডারেশনের সহসভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টু বলেন, “আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে। মেয়েরা কাঁদছে। কারণ তারা জানে কতটা ভাল পারফরম্যান্স করেছে। আমরা ৩০০ ডলার দিয়ে আবেদন করার চিন্তা-ভাবনা করছি।” নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় কারাতে দলের জাপানি কোচ কিতামুরা তেসুরো, “দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স দেখে আমি লিখেই রেখেছিলাম নেপালের সঙ্গে আমরা ফাইনালে খেলব। কিন্তু জাজমেন্ট ভালো হয়নি। পাকিস্তানের চেয়ে আমাদের পারফরম্যান্স অনেক ভাল ছিল।”

Share.