বেরিয়ে আসছে গাজী নজরুল ইসলামের নানা কাহিনি

0

ঢাকা অফিস: নারীকাণ্ডে বিতর্কিত সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর একের পর এক নতুন ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে আরেক নারীর সঙ্গে হোটেলের করিডর, লবি ও সিঁড়িঘরে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। এদিকে একজন এমপির বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং ব্যক্তিগত জীবনে নৈতিকতার অভাব এখন শুধু ‘টক অব দ্য কন্ট্রি’ নয়, এমনকি শুধু দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা সংসদ, সংবিধান ও আইনি বিতর্কে পরিণত হয়েছে। এমন জঘন্য ঘটনা ঘটানোর পর সংসদে সেই সদস্যের সদস্যপদ বহাল থাকবে কি না, থাকলে কেন? এমন ঘটনায় সংসদের কি কোনো দায়দায়িত্ব নেই? এসব নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনপ্রণেতা ও আইনজীবীরা এ ক্ষেত্রে কোন প্রক্রিয়ায় কী করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। গতকাল জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে পরিচালিত সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়কে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখন সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।’ সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দল তাঁকে বহিষ্কার করলে তার আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন ওঠে। তবে এ ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের স্পিকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও সংসদ সচিবালয়ের প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘দলের পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। সংসদ সচিবালয় ও স্পিকারের রেফারেন্স পাওয়ার পর কমিশন বিষয়টি আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজন হলে শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুধু দলীয় চিঠির ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া একটি বিতর্কিত বিষয়।’ এদিকে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, আমিনুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে তাঁর গাড়ির চালক ওবায়দুল্লাহ পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান। বেরিয়ে আসছে আরও ভিডিও : বহিষ্কারের পর গতকাল সমাজমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, তিনি এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে একটি হোটেলে প্রবেশ করছেন। হোটেলের রিসেপশনে দায়িত্বরত ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দনের পর তাঁরা ভিতরে প্রবেশ করেন। পরে হোটেলের লবি, করিডর ও সিঁড়িঘরে ওই নারীর সঙ্গে তাঁকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতেও এক নারীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ অবস্থার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ঘটনা জানার পরপরই জামায়াত তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নির্বাচনি এলাকায় এমপির পদত্যাগ দাবিতে মানববন্ধন ও বহিষ্কারে মিষ্টি বিতরণ : গাজী নজরুল ইসলাম এমপির নির্বাচনি এলাকা শ্যামনগর প্রেস ক্লাব চত্বরে গতকাল সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন।

Share.