মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনায় দরকষাকষির মধ্যেই বাড়ল তেলের দাম

0

ডেস্ক রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশা-নিরাশার দোলাচলের মধ্যেই বৃহস্পতিবার (০৭ মে) দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি বেড়ে ১০১ ডলার ৮১ সেন্টে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়ায় ৯৫ ডলার ৫৩ সেন্টে। এর আগের দিন বুধবার শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির আশায় তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। একদিনেই উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ৭ শতাংশের বেশি কমে দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যায়। তবে পরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনার জন্য এখনও সময় হয়নি। এদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব বাস্তবসম্মত সমাধানের চেয়ে `ইচ্ছার তালিকা‘ বেশি। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ বৈঠক পর্যন্ত শান্তি আলোচনা চলতে পারে। তবে এর পর পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।জাপানের নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোইউকি কিকুকাওয়া বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে।ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। তবে তেহরানের দাবি, প্রস্তাবটিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে দুই পক্ষের মতভেদ রয়েছে।অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে কাছাকাছি সমঝোতার মুহূর্ত।বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, শান্তি চুক্তি হলেও দ্রুত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে না। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জাহাজ চলাচল ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে পুরোপুরি সচল হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত গত সপ্তাহেও কমেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মজুত ২৩ লাখ ব্যারেল কমে বর্তমানে ৪৫ কোটি ৭২ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকেরা এর আগে ৩৩ লাখ ব্যারেল হ্রাসের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সামান্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক খবরও এখন বিশ্ব তেলের বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। ফলে সামনের দিনগুলোতে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

Share.