মাদরাসা শিক্ষকদের বদলিতে নতুন নিয়ম

0

ঢাকা অফিস: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদরাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বদলি ব্যবস্থা চালু করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ। ‘সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদরাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ শীর্ষক নীতিমালার আওতায় শিক্ষক বদলির পুরো কার্যক্রম অনলাইনে ও সফটওয়্যারভিত্তিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। মঙ্গলবার (২ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (মাদরাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ শীর্ষক এই নীতিমালাটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি মাদরাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে প্রকাশ করবে এবং ওই শূন্যপদের বিপরীতে বদলির আবেদন আহ্বান করবে। নতুন জারি করা বিধান অনুযায়ী, আবেদনকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা চাকরির আবেদনে উল্লিখিত নিজ জেলাসহ পারিবারিক সুবিধার কথা বিবেচনায় দেশের যেকোনো জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন। তবে তিনি শুধুমাত্র সমমানের বা সমস্তরের মাদ্রাসায় একই পদে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। একটি শূন্য পদের জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়লে নারী প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল (সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা করা হবে। চাকরির জ্যেষ্ঠতা সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। নীতিমালায় দূরত্ব নির্ধারণেরও বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগী আবেদনকারীরা একই উপজেলার হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলার কেন্দ্র থেকে, বিভিন্ন উপজেলার হলে জেলা কেন্দ্র থেকে এবং বিভিন্ন জেলার হলে বিভাগীয় শহরের কেন্দ্র থেকে দূরত্ব গণনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রচলিত মডেল অনুসরণ করা হবে। একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলির আবেদনে সর্বোচ্চ তিনটি পছন্দের প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন। আবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর কমপক্ষে দুই বছর চাকরি করার আগে তিনি পুনরায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ে একজনের বেশি শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট শূন্যপদে নিয়োগের সুপারিশ চূড়ান্ত করবে এনটিআরসিএ। এদিকে নতুন নীতিমালা জারির ফলে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর জারি করা এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে নীতিমালার সংশোধন, পরিমার্জন বা ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংরক্ষণ করেছে।

Share.