মারা গেলেন ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মধু কাম্বিকর

0

বিনোদন ডেস্ক: ভারতীয় বিনোদনজগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নানা পাটেকরের মৃত্যুর চার দিন পর একসময় তার মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করা বর্ষীয়ান মারাঠি অভিনেত্রী মধু কাম্বিকর মারা গেছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) পুনেতে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন ৭৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। তার মৃত্যুতে মারাঠি চলচ্চিত্র, নাট্যজগৎ ও লোকশিল্পের একটি বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান হলো। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার কারণেই মৃত্যু হয়েছে মধু কাম্বিকরের। ২০১৬ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একসময় অভিনয় ও নৃত্য পরিবেশনা থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন তিনি। ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর প্রায় ১২ বছর পর মঞ্চে ফিরেছিলেন মধু কাম্বিকর। মুম্বাইয়ের মাতুঙ্গায় যশবন্ত নাট্য মন্দিরে আয়োজিত ‘লাবণ্যসঙ্গীত’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে অনুষ্ঠান চলাকালীনই অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন অভিনেত্রী। শারীরিক অস্বস্তি সত্ত্বেও ‘ভৈরবী’ পরিবেশনা শেষ করেন তিনি। পরে মেকআপ রুমে যাওয়ার পর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন মধু। এর ফলে তার ডান হাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই ঘটনার পর থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই চালিয়ে গেলেও আর আগের মতো অভিনয় ও নৃত্যের জগতে সক্রিয় হতে পারেননি তিনি। মারাঠি বিনোদনজগতের পরিচিত মুখ ছিলেন মধু কাম্বিকর। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৭৫টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি কাজ করেছেন এক ডজনেরও বেশি নাটকে। লোকশিল্পের প্রাণবন্ত পরিবেশনা থেকে শুরু করে মূলধারার চলচ্চিত্রে আবেগঘন চরিত্র; বিভিন্ন ভূমিকায় নিজের অভিনয়দক্ষতার ছাপ রেখেছেন এই শিল্পী। ‘ঝাপাটলেলা’, ‘দেবু’, ‘বিনকামাচা নবর’, ‘মাঝা চাকুলা’ এবং ‘এক হোতা বিদূষক’-এর মতো ছবিতে তার অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল। পর্দায় মা, শাশুড়ি কিংবা পরিবারের অভিভাবকসুলভ চরিত্রে তাঁকে প্রায়ই দেখা যেত। এসব চরিত্রে স্নেহ, মমতা ও আবেগের মেলবন্ধন ঘটিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। মধু কাম্বিকরের অভিনয়জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় ছিল ১৯৯৭ সালের ছবি ‘যশবন্ত’। এই ছবিতে অভিনেতা নানা পাটেকরের মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। মজার বিষয়, পর্দায় ছেলের চরিত্রে অভিনয় করা নানা পাটেকরের চেয়ে মধু ছিলেন দুই বছরের ছোট। বয়সের এই পার্থক্য সত্ত্বেও চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছিলেন নিজের অভিনয়গুণে। মারাঠি ছবির পাশাপাশি হিন্দি ও গুজরাটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন মধু। তার অভিনীত হিন্দি ছবির তালিকায় রয়েছে ‘শোলা অউর শবনম’, ‘হাম দোনো’, ‘সাতওয়াঁ আসমান’ এবং ‘আপনাপন’-এর মতো সিনেমা। ‘যশবন্ত’ ছবিতেও তার উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছিল। ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আভ্রাণ’ ছিল মধু কাম্বিকরের শেষ চলচ্চিত্রে অভিনয়। এর পর ২০১৬ সালের স্ট্রোক তার অভিনয় ও মঞ্চজীবনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে না পারলেও মারাঠি চলচ্চিত্র ও লোকশিল্পে তার অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Share.