বাংলাদেশ থেকে নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের নোয়াদিয়া গ্রামের আবুল কাসেম মিয়ার ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাশ এনামুল হক। তিনি মুখে অক্সিজেন মাস্ক, হাতে একটি চারাগাছ নিয়ে শহর থেকে গ্রামের রাস্তায় দাঁড়িয়ে একাই পরিবেশ আন্দোলন করে চলেছেন। এনামুল হক ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে অনার্স এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাশ করেছেন। গ্ৰিনম্যান হিসেবে পরিচিত এনামুল হক এর ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের মাধ্যমে গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা ও অক্সিজেনের গুরুত্ব বোঝাচ্ছেন রাস্তার মানুষকে।তার পাশে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল “গাছ বাঁচান, প্রকৃতি বাঁচান। প্রকৃতি বাঁচলে আমরাও বাঁচব।” শনিবার (২২ আগস্ট) এনামুল হক তিনি বলেন, প্রতিদিন মানুষ অক্সিজেন গ্রহণ করলেও এই অক্সিজেন কোথা থেকে আসে, তা অনেকেই জানেন না।‘গাছ লাগান’ বললে হয়তো অনেকেই শুনে চলে যাবেন।নিজেই অক্সিজেন মাস্ক পরে রাস্তায় দাঁড়ালে মানুষ ভাববেন, অক্সিজেন ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না, আর অক্সিজেনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস গাছ। পরিবেশ রক্ষার এ উদ্যোগে কারও ওপর নির্ভর না করে নিজের টিউশনির আয় থেকে অর্থ ব্যয় করছেন এনামুল। তার দাবি, ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার গাছ লাগিয়েছেন। রাস্তার পাশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থানে এসব গাছ লাগানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। এনামুল বলেন, আমি শুধু গাছ লাগাতে চাই না, আমি চাই গাছগুলো বেঁচে থাকুক। একটা গাছ মাটিতে পুঁতে ছবি তোলা খুব সহজ, কিন্তু সেই গাছটাকে বছরের পর বছর বাঁচিয়ে রাখা এটাই আসল দায়িত্ব।তবে গাছ লাগানোর পাশাপাশি সেগুলো রক্ষা করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। তার ভাষায়, ইচ্ছেটা অনেক বড়, কিন্তু সামর্থ্যটা সীমিত। তারপরও থেমে যাই না। কারণ আমার সামর্থ্য হয়তো সীমিত, কিন্তু আমার স্বপ্নটা সীমিত হওয়া উচিত নয়। পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এনামুল বলেন, তরুণদের হাতে মোবাইল, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আছে। চাইলে তারা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি ভালো বার্তা লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। শুধু ফেসবুকে পরিবেশ নিয়ে পোস্ট নয়, মাটিতে একটি গাছ লাগান। নিজের জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিবেশের কাজের তুলনা টেনে তিনি বলেন, আমার বন্ধুরা যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে বিভিন্ন জবের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমি সেখানে প্রতিদিন গাছ লাগাচ্ছি। আমার কাছে মনে হয়, এটা আমার সবচেয়ে বড় জব। সরকারের প্রতি তার আহ্বান, শুধু বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করলেই হবে না, লাগানো গাছগুলো যাতে বেঁচে থাকে সেজন্যও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। অক্সিজেন মাস্ক পরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তার মূল বার্তা কী, এমন প্রশ্নের জবাবে এনামুল বলেন, আজ আমি অক্সিজেন মাস্ক পরে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি, কারণ হয়তো আমরা এখনো বুঝতে পারছি না, অক্সিজেনের মূল্য কতটা। আমি চাই না আমার সন্তানদের একদিন সত্যিই অক্সিজেনের মাস্ক পরে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে।
মাস্টার্স পাশ যুবকের মুখে অক্সিজেন মাস্ক, হাতে চারা গাছ নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় পরিবেশ আন্দোলন!
0
Share.