যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছাড়া ইরানের জব্দ সম্পদ মুক্ত নয়: ট্রাম্প

0

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের জব্দ থাকা শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের বিখ্যাত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া অবস্থানের কথা জানান। ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, জব্দ থাকা অর্থ নিয়ে তেহরানের সাথে ওয়াশিংটনের সমঝোতার সুযোগ আপাতত খুবই সীমিত। ট্রাম্প বলেন— ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করার প্রশ্নটি কেবল একটি চুক্তি হওয়ার পরই বিবেচনা করা হবে। তারা যদি ভালো আচরণ করে, ভালো কাজ করে, তবেই আমরা আলোচনা শুরু করব। এদিকে তেহরান স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের কারণে জব্দ থাকা সম্পদের অন্তত একাংশ অবমুক্ত না হলে তারা কোনো চুক্তিতে যাবে না। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র দুই দফা সামরিক অভিযান চালানোয় ইরানি কর্মকর্তারা এখন চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছানোর দাবি করলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও জব্দ সম্পদের মতো মৌলিক ইস্যুগুলোতে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু, কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি জারি রেখেছেন। গত শুক্রবার উইসকনসিনের এক খামারবাড়িতে এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা হয় চুক্তির খুব কাছাকাছি, নয়তো আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালাব। অন্যদিকে, গত শনিবার সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ী ভিন্ন সুর শুনিয়েছেন। তাঁর মতে, আলোচনা বর্তমানে পুরোপুরি অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। জব্দ থাকা সম্পদ ও চুক্তি প্রসঙ্গ যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারের বেশি সম্পদ জব্দ রয়েছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় এই সম্পদ ধাপে ধাপে ছাড় করার কথা থাকলেও ২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফাভাবে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে ১২ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড়ের দাবি করছে। এর মধ্যে অর্ধেক চুক্তি সইয়ের সাথে সাথে এবং বাকি অর্ধেক পরবর্তী ধাপে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। রেজায়ী এই অর্থছাড়ের বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘বিশ্বাসের পরীক্ষা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সাথে কথা বলতে প্রস্তুত। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পরপরই তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি নেতৃত্বে আসেন। সংঘাতের শুরুর দিকে মার্কিন হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাঁকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প রহস্যজনকভাবে বলেন, “তিনি কোথায় আছেন, তা আমি জানি কি না—সেটা বলতে চাই না। তবে আমার জানার সম্ভাবনা যথেষ্ট বেশি।” ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করছেন না। তবে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান হামলার কারণে সামগ্রিক যুদ্ধবিরতির আলোচনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলা এবং ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধের জবাবে তেহরান যেকোনো সময় পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে। অন্যদিকে আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, লেবাননের চলমান সংঘাতের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ‘সম্পূর্ণভাবে হিজবুল্লাহকেই দায়ী’ মনে করে।

Share.