‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান’

0

ডেস্ক রিপোর্ট: ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে গত বছরের ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ের তুলনায় এখন দেশটি খোলা সংঘাতের জন্য আরও বেশি প্রস্তুত। সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তার এই বক্তব্য আসে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার হুমকি দিয়েছেন যে, ইরানে চলমান প্রাণঘাতী দাঙ্গা দমনে সরকারের অভিযানের জেরে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। তেহরানের দাবি, এই অস্থিরতা ওয়াশিংটন ও পশ্চিম জেরুজালেম (ইসরায়েল) পরিকল্পিতভাবে উসকে দিয়েছে। তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে আরাঘচি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং আগের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় আমরা এখন আরও বেশি প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আলোচনার জন্যও প্রস্তুত, তবে সেই আলোচনা হতে হবে ন্যায্য, সম্মানজনক ও সমান অবস্থান থেকে- পারস্পরিক সম্মান এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, আলোচনা হতে হবে সদিচ্ছা থেকে, “আদেশ ও নির্দেশনা” দিয়ে নয়। ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়ন ও নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা দ্রুত বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় জাতীয় অস্থিরতায় রূপ নেয়। তেহরানের মতে, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থাকা “সন্ত্রাসীরা” ডজনের বেশি মসজিদ, চিকিৎসা কেন্দ্র, প্রশাসনিক ও অন্যান্য ভবনে আগুন দিয়েছে এবং “আইএসআইএস-ধাঁচের সহিংসতায়” শত শত বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্যকে হত্যা করেছে। আরাঘচির দাবি, এই অস্থিরতা সংগঠিত করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের “বড় ভূমিকা” ছিল। তিনি বলেন, তেহরান এমন অডিও বার্তা রেকর্ড করেছে, যেখানে ভিড়ের মধ্যে থাকা সশস্ত্র এজেন্টদের বিক্ষোভকারী, পথচারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল। গত গ্রীষ্মকাল থেকে তেহরান, ওয়াশিংটন ও পশ্চিম জেরুজালেমের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র রয়েছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে যোগ দেয় এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। ট্রাম্পের দাবি, এই হামলা দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন আগেভাগেই ঠেকাতে করা হয়েছিল- যদিও তেহরান এই দাবি অস্বীকার করেছে। রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন, তার প্রশাসন ইরানে হস্তক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছে।

Share.