লেবাননে হামলা নিয়ে ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

0

ডেস্ক রিপোর্ট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত ইরান-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক মেনে নিতে ইসরায়েলকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রই ইসরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র, তাই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো তাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেন, “আমি যদি ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার সদস্য হতাম, তাহলে অন্তত আমার একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকে আক্রমণ করতাম না।” বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় চার মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলি নেতৃত্বের মধ্যে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, ভ্যান্সের মন্তব্য তারই প্রকাশ্য প্রতিফলন। ভ্যান্স ব্রিফিংয়ে ইরানের সঙ্গে হওয়া নতুন সমঝোতা স্মারকের পক্ষে অবস্থান নেন। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চুক্তিটি নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের লেবানন-সংক্রান্ত শর্ত মানতে ইসরায়েল বাধ্য নয়। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ৬০ দিনের একটি আলোচনাপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আলোচনার সফল পরিণতি হলে ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে চুক্তি স্বাক্ষরের পরও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তাঁর সমর্থক গণমাধ্যমগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করছে। তারা ট্রাম্পের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে আর্থিক স্বার্থে ইসরায়েলের স্বার্থ বিসর্জনের অভিযোগ তুলেছে। এসব সমালোচনার জবাবে ভ্যান্স বলেন, ইসরায়েলের ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রায় ৭৫ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা এবং এর বড় অংশের ব্যয়ও ওয়াশিংটন বহন করেছে। তাই ইসরায়েলের সমস্যা ট্রাম্প নন; বরং বাস্তবতা অনুধাবন করাই এখন তাদের প্রয়োজন। ভ্যান্স আরও জানান, ট্রাম্প প্রশাসন নিয়মিতভাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনায় তিনি এমন কোনো উদ্বেগের কথা শোনেননি, যা প্রকাশ্যে তুলে ধরা হচ্ছে। ব্রিফিংয়ে তিনি বৈরুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলারও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, ওই হামলায় নিহত অনেক মানুষের সঙ্গে হিজবুল্লাহর কোনো সম্পর্ক ছিল না, যদিও ইসরায়েল হামলার লক্ষ্য হিসেবে সংগঠনটির অবস্থানকে চিহ্নিত করেছিল। ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যা হিজবুল্লাহর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করবে এবং একই সঙ্গে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

Share.