ডেস্ক রিপোর্ট: ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আর্মি দিবস উপলক্ষে দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডার ও সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রকাশিত একাধিক বার্তায় তাদের এ প্রশংসা করা হয়। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় সেনাসদস্যদের ত্যাগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “সেনাবাহিনী ইরানের শক্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক।” তিনি আরও বলেন, “সেনাবাহিনী, তাদের সদস্য ও কমান্ডাররা যুদ্ধ হোক বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ—সব পরিস্থিতিতেই ইরান ও এর জনগণকে রক্ষায় তাদের পূর্ণ অঙ্গীকার দেখিয়েছে।” ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই-ও আর্মি দিবস উপলক্ষে সেনাসদস্য এবং দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “ইসলামি বিপ্লবের প্রথম দিন থেকেই সেনাবাহিনী এই দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে- রক্তপীপাসু সাদ্দাম হোসেন থেকে শুরু করে গণহত্যাকারী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে।” তিনি সেনাসদস্যদের পরিবারকেও অভিনন্দন জানান এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের নেতা সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনেই-এর প্রতি তাদের পূর্ণ আনুগত্যের ওপর জোর দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আর্মি দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “এই কঠিন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার কারণেই দেশ শত্রুর কুমতলব থেকে রক্ষা পেয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি সরাসরি ইরানের সেনাবাহিনীর ত্যাগের ফল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাঈল বাঘায়ি আন্তর্জাতিক জলসীমায় “নিপীড়ক মার্কিন শাসনের হাতে” শহীদ হওয়া ডেনা ডেস্ট্রয়ারের সদস্যদের স্মরণ করেন। তিনি আরও সেনাবাহিনীর কমান্ডার ও সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে ইরানকে নিরাপদ রাখার জন্য তাদের ত্যাগের প্রশংসা করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের, অবৈধ ও উসকানিবিহীন যুদ্ধ শুরু করে। এতে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনেইসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার নিহত হন। এছাড়া দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলায় শত শত বেসামরিক ইরানি নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের ১৬০ জনের বেশি স্কুলশিক্ষার্থী উল্লেখযোগ্য। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ৪০ দিনের বেশি সময় ধরে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে ১০০ দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইরান স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করতে ১০ দফা প্রস্তাব দেয়। তবে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও কোনো সমঝোতা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের “অতিরিক্ত দাবি”-কে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করে ইরান।
‘শক্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক’ হিসেবে ইরানের সেনাবাহিনীর প্রশংসা
0
Share.