শ্বেতাঙ্গ যাত্রীর ‘অস্বস্তি’, ফ্লাইট থেকে নামানো হলো মুসলিম নারীকে

0

ডেস্ক রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্রে আমেরিকান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে এক মুসলিম নারীকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, একজন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ যাত্রী আমানি আল-খাতাহতবেহ নামের এক মুসলিম নারীর সঙ্গে একই ফ্লাইটে যেতে ‘অস্বস্তিবোধ’ করছেন জানানোর পর, ওই নারীকে ফ্লাইট থেকে নেমে যেতে বলা হয়। আমানি আল-খাতাহতবেহ নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে থেকে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য পদে নির্বাচনে দাঁড়ানো প্রথম মুসলিম নারী। এ ছাড়া তিনি মুসলিম গার্ল নামের একটি ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা। গত ১৪ নভেম্বর আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে নিউআর্ক থেকে নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লটে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর।আমানি আল-খাতাহতবেহ অভিযোগ করেছেন, ফ্লাইটে ওঠার আগে নিরাপত্তা তল্লাশির লাইনে অবস্থানের সময় এক ব্যক্তি পেছনে থেকে এসে তাঁর সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লে তিনি প্রতিবাদ করেন। আমানি আল-খাতাহতবেহ এক টুইটে বলেন, “বিমানবন্দরে আজ সকালে এক উদ্ভট অভিজ্ঞতা হলো। আমার পেছনে দাঁড়ানো এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি আমাকে লাইন থেকে সরিয়ে দিতে জোরাজুরি করে, কারণ (তার ভাষায়) আমি ‘তখনো আমার জুতা খুলছিলাম’। আমি যখন তাকে অন্যদের মতো অপেক্ষা করতে বললাম, তখন সে আমাকে কথা শোনাতে শুরু করল যে সে কীভাবে ‘আগে থেকে সব ঠিকঠাক করে’ (লাইনে দাঁড়িয়েছে) এবং সে ‘প্রথম শ্রেণির’।” আল-খাতাহতবেহর দাবি, লোকটি তাঁর সামনে ব্যাগ রেখে সরে গিয়ে বলে, ‘সে আমার আগে মেটাল ডিটেক্টর পার হবে না।’ আল-খাতাহতবেহ ইন্ডিপেন্ডেন্টকে বলেন, ‘একজন নিকাব পরা মুসলিম নারী হিসেবে আমি যদি তখনই নিরাপত্তাকর্মীদের ডাকতাম, আমাকেই উল্টো ধরে নিয়ে যাওয়া হতে পারত, হয়তো আটক করা হতো, হয়তো আমি ফ্লাইট মিস করতাম এবং জরিমানাও করা হতো।’ “অথচ শেষমেষ তাই হলো। নিরাপত্তাকর্মীরা এসে লোকটিকে কিছু না বলে আমাকেই ‘ক্ষ্যান্ত দিতে বললেন’”, যোগ করেন আল-খাতাহতবেহ।ইন্ডিপেন্ডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্লাইটে ওঠার সময় কী হয়েছে পরিষ্কার বোঝা না গেলেও ফ্লাইট থেকে ওই নারীকে নামতে বলা হয়েছে তা নিশ্চিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কোনো এক যাত্রী ওই নারীর সঙ্গে একই উড়োজাহাজে ভ্রমণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করায় বিমানবন্দর নিরাপত্তাকর্মীদের কেউ ওই নারীকে ফ্লাইট ত্যাগ করতে বলছেন। খাতাহতবেহ বলছেন, ‘আমিও ওই যাত্রীর সঙ্গে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করছি না। তাকে নামিয়ে দেওয়া হোক। এটা না করা হলে কি বুঝে নেব, সে প্রথম শ্রেণির তাই তাকে নামানো হচ্ছে না?’ আল-খাতাহতবেহ নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞেস করেন, কেন তাঁর কথার চেয়ে ওই ব্যক্তির কথাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?

প্রতিবাদও হয়েছে: একই ফ্লাইটের জেইক নামক অপর যাত্রী আলাদা টুইটে লিখেছেন, ‘ফ্লাইট থেকে নেমে গেলাম। কারণ আমেরিকান এয়ারের এই ফ্লাইটের এক মুসলিম নারীকে এক যাত্রী নেমে যেতে বলেছে। আমেরিকান এয়ার কর্তৃপক্ষ ওই যাত্রীর কথামতো কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই নারীটিকে নামিয়ে দিল।’ নিউ জার্সি হেরাল্ড পত্রিকার খবর অনুযায়ী, আল-খাতাহতবেহকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পরে অবশ্য তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমেরিকান এয়ারলাইনসের একজন মুখপাত্র দ্য হিল পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা যতটুকু বুঝেছি, স্ক্রিনিংয়ের সময় আল-খাতাহতবেহ জুতা ঠিক করছিলেন দেখে অন্য যাত্রীকে সুযোগ দেওয়া হয়। আল-খাতাহতবেহ মনে করেছেন অন্য যাত্রীকে তাঁর চেয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ থেকে বাদানুবাদ হয়। পরে নিজ আসনে না বসেই অপর যাত্রীকে ভিডিও করতে থাকেন আল-খাতাহতবেহ।’ কাউন্সিল অব আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের জাতীয় নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমেরিকান এয়ারলাইনকে অতি দ্রুত এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। যে ব্যক্তি আমানি আল-খাতাহতবেহকে উত্ত্যক্ত করেছে তারই কথায় কেন ফ্লাইট থেকে আমানিকে নামিয়ে দেওয়া হলো।’

Share.