ঢাকা অফিস: সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্ত হয়েছেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্ত হয়ে বের হন। ভোরের আলো ফোটার পরপরই কারা ফটকে প্রবেশ করে প্রিজন ভ্যান ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের গাড়ি। সকাল সোয়া ৬টার দিকে কারাগার থেকে পুলিশি পাহারায় বের হয়ে আসেন দীপু মনি। পরে তাকে প্রিজন ভ্যানে করে ঢাকার উদ্দেশে নেওয়া হয়। মুন্সীগঞ্জ কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার হাসেম রেজা গণমাধ্যমকে বলেন, বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে দীপু মনিকে ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তির নির্দেশনার কাগজ পাই। সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দীপু মনির নিরাপত্তার জন্য পুলিশের দুটি গাড়ি ও প্রিজন ভ্যানে পুলিশের ৩৮ জন সদস্য ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে তাঁকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে দীপু মনির আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম তার চার দিনের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। পরে মুন্সিগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী আজ সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার জন্য তার প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেন। ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক মামলার আসামি দীপু মনি। তার স্বামী তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। স্বামীর সঙ্গে কারাগারের বাইরে সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে একাধিকবার আবেদন করেও অনুমতি পাননি দীপু মনি। আদালতে তাকে হাজির করা হলে স্বামী তৌফিক নেওয়াজ শয্যাশায়ী অবস্থায় স্ট্রেচারে করে তার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। তৌফিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মরদেহ আজ সকালে ঢাকার কলাবাগানে তার নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে স্বামীর মরদেহ দেখবেন দীপু মনি। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে গুলশানের আজাদ মসজিদে। সেখানে বাদ জোহর জানাজা ও দোয়া শেষে তার মরদেহ দাফন করা হবে বনানী কবরস্থানে।
স্বামীকে শেষ বিদায় জানাতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্ত দীপু মনি
0
Share.