স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে রাজি নন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তার মতে, দুজনই স্ট্রাইকার হলেও তাদের খেলার ধরন একেবারেই আলাদা। একইসঙ্গে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে ইংল্যান্ড নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সময় শনিবার হার্ড রক স্টেডিয়ামে শেষ চারের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। গোল্ডেন বুটের দৌড়েও রয়েছে দুই দলের এই দুই তারকা। এখন পর্যন্ত ৮ গোল করে সবার ওপরে রয়েছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি। তাদের ঠিক পেছনেই ৭ গোল নিয়ে আছেন হালান্ড, আর ছয় গোল করেছেন কেইন। সংবাদ সম্মেলনে হালান্ডের সঙ্গে নিজের তুলনা প্রসঙ্গে কেইন বলেন, ‘এটির উত্তর দেওয়া প্রায় অসম্ভব। আমরা দুজনই স্ট্রাইকার হলেও আমাদের খেলার ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন। সত্যি বলতে, আমরা যেন দুই ভিন্ন ধরনের পজিশনে খেলি।’ হালান্ডের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘গোল করার ক্ষেত্রে সে অবিশ্বাস্য। শারীরিকভাবে সে যেন একটি যন্ত্র, একেবারে শক্তির প্রতীক। তার ফিনিশিং সর্বোচ্চ মানের। তার গোলের পরিসংখ্যানই সব বলে দেয়।’ চলতি মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে মোট ৭৩ গোল করেছেন কেইন। অন্যদিকে গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৪৬ গোল করার পাশাপাশি চার বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন হালান্ড। তবে নিজের খেলার ধরনকে আলাদা বলেই মনে করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। কেইন বলেন, ‘আমিও গোল করি, কিন্তু আমি ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়। আমি বল বেশি ছুঁতে পছন্দ করি, খেলায় আরও বেশি জড়িত থাকতে চাই। আবার প্রয়োজন হলে পুরোপুরি একজন কেন্দ্রীয় স্ট্রাইকার হিসেবেও খেলতে পারি। তাই আমাদের তুলনা করাটা ঠিক হবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি তাকে একজন ফুটবলার এবং পেশাদার হিসেবে অনেক সম্মান করি। তবে আশা করি, আগামীকাল তার দিনটা খুব একটা ভালো যাবে না। গত কয়েক বছরে সে যা করেছে, তা তাকে অসাধারণ খেলোয়াড় হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছে।’ গ্রুপ পর্বে খুব একটা ছন্দে না থাকলেও শেষ পর্যন্ত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। এরপর শেষ ষোলোতে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে কেইনের জোড়া দেরিতে করা গোলে জয় পায় দলটি। পরে মেক্সিকোর বিপক্ষে ৩-২ গোলের স্মরণীয় জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। টুর্নামেন্টে এখনই নিজেদের সেরা ফুটবল খেলার সময় এসেছে বলে মনে করেন কেইন। তিনি বলেন, ‘সবাই চায় টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই নিখুঁত ফুটবল খেলতে। বাস্তবে কিন্তু সেটা সব সময় হয় না। বড় টুর্নামেন্টের ইতিহাসই বলে, চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলগুলোর পথ কখনোই পুরোপুরি মসৃণ থাকে না।’ কেইনের বিশ্বাস, এখন থেকে দলটি নিজেদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দেখাতে পারবে। তিনি আরও বলেন, ‘এখন কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং ফাইনালের সময়। আমাদের এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে, যেখানে দল হিসেবে নিজেদের সেরা সংস্করণটি দেখা যাবে। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করেছি। এখন সেটি মাঠে দেখানোর সময়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়ে পুরো স্কোয়াডের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে, কারণ যে কেউ ম্যাচে নেমে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।’ শুক্রবার ইন্টার মায়ামির অনুশীলন কেন্দ্রে প্রস্তুতি সারে ইংল্যান্ড। সেখানে দলের সঙ্গে সময় কাটান ক্লাবটির সহমালিক ও ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গলফ খেলার প্রসঙ্গও নিশ্চিত করেছেন কেইন। তিনি বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর আগে আমি পাম বিচে থাকাকালে তিনি আমাকে গলফ খেলতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। একজন প্রেসিডেন্ট যখন আমন্ত্রণ জানান, সেটি অবশ্যই বিশেষ অভিজ্ঞতা। তার সঙ্গে দেখা করা এবং গলফ খেলা ছিল দারুণ স্মরণীয় মুহূর্ত।’ ট্রাম্পের গলফ দক্ষতারও প্রশংসা করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক, ‘সত্যি বলতে, তিনি বেশ ভালো গলফ খেলেন। আশা করি, তার বয়সে পৌঁছে আমিও তার মতো খেলতে পারব।’
হালান্ডের সঙ্গে নিজের তুলনা করতে রাজি নন কেইন
0
Share.