৪ কোটির বেশি মানুষ অংশ নেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানে

0

ডেস্ক রিপোর্ট: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন উপলক্ষে আয়োজিত ছয় দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ৪ কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত এসব কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। একই সময়ে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের বিভিন্ন বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৩০ লাখ।রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভি এই শোকযাত্রাকে ‘বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা ও মাশহাদ—এই পাঁচ শহরে জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গত শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হলে সেখানে হাজারো মানুষ ভিড় করেন। সেখান থেকেই রাষ্ট্রীয়ভাবে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে হামাস, ইসলামিক জিহাদ, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে নিজ বাসভবনে নিহত হওয়ার চার মাসের বেশি সময় পর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তাকে ইরানের অন্যতম পবিত্র শিয়া ধর্মীয় স্থান ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়। এদিকে আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে ইরান। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনার খবরে বলা হয়, সম্মেলনে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ন্যাটোর অবস্থানকে তেহরান পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে দেখছে। তুরস্কে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা ইরানের নেই। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব নিজেদের বলে উল্লেখ করে অঞ্চলটির অস্থিতিশীলতার জন্য বাইরের শক্তিগুলোকে দায়ী করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের প্রতি ন্যাটোর সমর্থন তাদের রাজনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন। ন্যাটো সম্মেলনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্রদের হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি অভিযোগ করেন, ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ আখ্যা দেওয়ার পরও ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে।

Share.