ঢাকা অফিস: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর (শনিবার) ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন ছয় ঘণ্টা কোনো টোল দিতে হবে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে বিনা খরচে চলাচল করতে পারবেন সব ধরনের অনুমোদিত যানবাহন। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী সব যানবাহনের জন্য সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টোল মওকুফ থাকবে। অর্থাৎ, নির্ধারিত ছয় ঘণ্টা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে কোনো টোল পরিশোধ করতে হবে না। দুপুর ১২টার পর থেকে আগের নিয়মে টোল আদায় করা হবে। এর আগে গত বছর ২৫ ডিসেম্বর চার ঘণ্টার জন্য ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোলমুক্ত রাখা হয়েছিল। ওই দিন প্রায় দেড় যুগ পর লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর দেশে ফেরা উপলক্ষে গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছিল বিএনপি। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় টোল প্লাজা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছুদিন বিনা টোলে যানবাহন চলাচল করেছিল। যানবাহনভেদে এক্সপ্রেসওয়ের টোল বর্তমানে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের শ্রেণি অনুযায়ী টোল আদায় করা হয়। নির্ধারিত টোলের হার হলো— কার, ট্যাক্সি, স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল, মাইক্রোবাস (১৬ আসনের কম) ও হালকা ট্রাক (৩ টনের কম): ৮০ টাকা। বাস (১৬ আসন বা তার বেশি): ১৬০ টাকা। মাঝারি ট্রাক (৬ চাকা পর্যন্ত): ৩২০ টাকা। ৬ চাকার বেশি ট্রাক: ৪০০ টাকা। তবে এক্সপ্রেসওয়েতে রিকশা, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ। যতটুকু চালু রয়েছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে নির্মিত হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এর একাংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে কাওলা থেকে এফডিসি পর্যন্ত অংশে যানবাহন চলাচল করছে। পুরো প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাওলা থেকে শুরু হয়ে রেললাইন ধরে তেজগাঁও, মগবাজার ও কমলাপুর হয়ে যাত্রাবাড়ীর কাছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালীতে গিয়ে শেষ হবে উড়ালসড়কটি। তবে এখনো পুরো অংশের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি মূল নির্মাণকাজ ও সহযোগী কাজ—এই দুই ভাগে বিভক্ত। মূল নির্মাণকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ব্যয় করছে ২ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা। বাকি অর্থ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বহন করছে। অন্যদিকে জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও পরামর্শকদের ব্যয়ের জন্য নেওয়া পৃথক প্রকল্পে বরাদ্দ রয়েছে ৪ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। এর পুরো অর্থই সরকার দিচ্ছে। সব মিলিয়ে দুটি প্রকল্পে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০১১ সালে নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রাথমিকভাবে সাড়ে তিন বছরে নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
৬ ঘণ্টা টোল ছাড়াই চলবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
0
Share.